নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় পশ্চিমবঙ্গে নিহত ১৪

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ২৩:৪১

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে দলগুলো পালটাপালটি অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। বিজেপি এসব সহিংসতার জন্য ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহিংসতার ঘটনায় রাজ্য গভর্নরকে ফোন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন, আর রাজ্যবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন তৃণমূলের, পাঁচ জন বিজেপির, এক জন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের। বাকি তিন জনের রাজনৈতিক পরিচয় সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রবিবার থেকে মঙ্গলবার বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছু জায়গা থেকে বোমাবাজি, ভাঙচুর ও লুটতরাজের খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় সহিংসতার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে।

গত রবিবার ভোট গণনায় তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে। তবে এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যকার চরম বিরোধ উত্তাপ ছড়িয়েছে। নির্বাচন চলাকালেও কয়েকটি জায়গায় সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, এত বিপুল সমর্থন নিয়ে তৃণমূল জিতেছে তারপরেও কেন সহিংসতা। পুলিশের সামনে আগুন, লুটতরাজ হচ্ছে, কিন্তু পুলিশ কিছু বলছে না। এটা মেনে নেওয়া যায় না। জানা গেছে, সহিংসতায় শীতলকুচি, দীনহাটায়, কলকাতায় ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় এক জন করে নিহত হয়েছেন, যাদের বিজেপি তাদের কর্মী দাবি করে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছে।

অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানে তিন জন নিহত হয়েছেন যাদের নিজেদের কর্মী দাবি করে তাদের হত্যার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে তৃণমূল। এছাড়া আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফোর্স বা আইএসএফ উত্তর চব্বিশ পরগনায় তাদের এক জন কর্মীকে হত্যার জন্য তৃণমূলকে অভিযুক্ত করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় গভর্নর জগদীপ ধনখড় বলেন, ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। দায়িত্বপ্রাপ্তদের উচিত এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। এর আগে সোমবার তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সাক্ষাত্কালেও সহিংসতার প্রসঙ্গ এনেছিলেন গভর্নর। জবাবে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে নির্বাচন কমিশনই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করছে। তবুও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যা করার তা আমি দেখব। তিনি বলেন, যদিও আমরা জানি বিজেপি ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী অনেক অত্যাচার করেছে। তাও আমাদের শান্তি বজায় রাখতে হবে।

এদিকে ভারতের এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, বিজেপিকে হারানো সম্ভব। মানুষ সে রাস্তা দেখিয়েছে। বিজেপির এখন রাজনৈতিক অক্সিজেন দরকার। তিনি বলেন, বিজেপি একটি সাম্প্রদায়িক দল। তারা সমস্যা সৃষ্টিকারী। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজনীতিতে আপনি ঔদ্ধত্য বা ইগো দেখাতে পারেন না।