বাঁশখালী বিদ্যুেকন্দ্রে সংঘর্ষ

ডিসি ও পুলিশের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তলব

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ২৩:৩৮

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদ্যুেকন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এ রিপোর্ট আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। পৃথক দুটি রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনার তদন্তে কেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানে এস আলম গ্রুপকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি ৩ কোটি এবং আহতদের পরিবার প্রতি ২ কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিট শুনানিতে এস আলমের আইনজীবী আরশাদুর রউফ বলেন, ‘আমরা নিহত শ্রমিকদের ৩ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি।’ আদালত বলে, ৩ লাখ টাকা খুবই সামান্য, আপাতত আরো ২ লাখ টাকা করে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে দেবেন। আদালত আরো বলে, এই বিদ্যুত্ প্রকল্পে দুই-চার বছর পরপর কেন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, কেন শ্রমিক মারা যায়।

ঐ আইনজীবী বলেন, দুটো গ্রুপের কাছ থেকে জমি কিনে এই প্রকল্প করা হয়েছে। যার জন্য এখানে একপক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। এ কারণে স্বার্থান্বেষী একটা মহল এখানে ঢুকে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ১৭ এপ্রিল একটা বাদে শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়। শ্রমিকদের একটি দাবি ছিল শুক্রবার আধাবেলা কাজ করে পুরো দিনের পারিশ্রমিক দিতে হবে। এনিয়ে দর কষাকষির এক পর্যায়ে বাইরে থেকে লোক এসে হামলা করে। তখন পুলিশ অ্যাকশনে যায়।

শ্রমিক ও গ্রামবাসীকে হয়রানি না করতে নির্দেশ

বাঁশখালী ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তদন্তের নামে সেখানকার শ্রমিক ও গ্রামবাসীকে হয়রানি না করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুত্ কোম্পানির পক্ষ থেকে করা দুটি মামলায় ৩ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা নিয়ে রিটকারী পক্ষ প্রশ্ন তুললে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। এছাড়া আহত শ্রমিকদের চিকিত্সার ব্যাপারে এস আলম গ্রুপ কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) অরবিন্দ কুমার বলেন, ডিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি হয়েছে। রিপোর্ট দুটো দেখে আদালত আদেশ দিতে পারেন। আদালত বলে, অনেক কমিটি হয় কিন্তু তদন্ত কখনো শেষ হয় না। ডিএজি বলে, এই তদন্ত  দ্রুতই শেষ হবে।

আদালতে রিটের পক্ষে বেলার সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সৈয়দা নাসরিন ও  জেড আই খান পান্না শুনানি করেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ঐ ঘটনায় হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করে।