অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স করোনা থেকেও বড় হুমকি :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ০০:৩৩

করোনা ভাইরাসে ইতিমধ্যে বিশ্বে ৩০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। কিন্তু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের জন্য করোনা থেকেও বড় হুমকির কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডারস গ্রুপ অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে কথাগুলো বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরো জানান, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শুধু মানুষ নয়, সেই সঙ্গে পৃথিবীর সব প্রাণী, গাছ এবং সর্বোপরি আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এর কারণে।

বাংলাদেশ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্সের গুরুত্ব অনুধাবন করে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স কনটেইনমেন্ট (এআরসি) বিষয়ে আমরা ছয় বছর মেয়াদি দীর্ঘ জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর মাধ্যমে মানুষের চিকিত্সার জন্য, গৃহকার্যে, মত্স্য চাষে এবং কৃষি ক্ষেত্রে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার পরিমিত পরিমাণে করা হবে। ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘গ্লাস’ প্লাটফরমে এএমআর-এর তথ্য প্রদান করছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের সহায়তা নিচ্ছি আমরা।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স যে কারো জন্য ক্ষতিকর এবং এই ক্ষতি আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বা ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এএমআর নিশ্চিতে আমাদের ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কনট্রোল (আইপিসি) বিষয়ে কড়া নজরদারি থাকতে হবে।

জিএলজি-এএমআর-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এবং গত সপ্তাহে আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রদান করা কর্ম পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এএমআর-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে আরো সাতটি পরামর্শ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এআরসি লক্ষ্য অর্জনের জন্য বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং জাতীয় পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া, তা পর্যবেক্ষণে রাখা এবং এ বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

এ ছাড়াও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যথাযথ ব্যবহারের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম ও নীতি তৈরি করা; কার্যকর এবং যথাযথভাবে এএমআর ব্যবহারের জন্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং নিজেদের মধ্যে এএমআর পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো; প্রযুক্তি পরস্পরের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া এবং ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে সবার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য মেডিক্যাল সুবিধা ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা; নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোর কথা মাথায় রেখে এএমআর নিয়ন্ত্রণ ও এর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যথাযথ এবং টেকসই অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করা; এএমআর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং সর্বোপরি ক্রয়সীমার মধ্যে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ব্যবহারের ব্যবস্থা করার পরামর্শ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এএমআর গ্লোবাল লিডার গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে এএমআর ব্যবহারকে বৈশ্বিক পলিটিক্যাল এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরতে বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একত্রে কাজ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।