সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ২০:১৭

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মনোনীত করাকে কেন্দ্র করে বিবাদে জড়ানো বারের কার্যনির্বাহী কমিটির আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতারা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 

সম্মেলনে কমিটির বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতারা বলেছেন, বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করা হয়েছিল সভাপতি পদ পূরণে করণীয় নির্ধারণের জন্য, নির্বাচনের জন্য নয়। তাই সেখানে বারের সভাপতি মনোনীত করার ঘটনা প্রমাণ করে ভোট বিহীন ক্ষমতা দখলের যে চর্চা বর্তমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনরা চালু করেছে গতকালের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো। যেটি সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসাবে কখনই আমাদের কাম্য ছিল না।

অপরদিকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী নেতারা বলেন, আমরা বারের গঠনতন্ত্রের ২১, ১২ এবং ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ সাধারণ সভায় এবং হাউজে সভাপতি হিসাবে এ এম আমিন উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেছি এবং তা সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। অন্য কোন পক্ষ সভাপতি হিসাবে অন্য কোন নাম প্রস্তাব করেনি এবং সমর্থন করেনি। এমতাবস্থায় গনতান্ত্রিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে এম আমিন উদ্দিন বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। 

বারের সম্পাদক বিএনপিপন্থী প্যানেলের ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের চর্চা করে। গণতান্ত্রিক চর্চার প্রক্রিয়া হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা আমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং সমিতির কার্যক্রম নির্বাচিতদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এটিই সকলের প্রত্যাশা। কোন অনির্বাচিত ব্যক্তির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হবে এটি কোন সদস্য প্রত্যাশা করে না। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির শূন্য পদ নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। সমিতি ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় কমিটিতে নির্বাচিত একই প্যানেলের আরো ৫ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা আওয়ামীপন্থী প্যানেলের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা বলেন, গতকালের সাধারণ সভায় আমার সভাপতিত্ব করার সিদ্ধান্ত আগেই গৃহীত হয়েছিলো এবং তার রেকর্ড আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, বিশেষ সাধারণ সভা পরিচালনার সময় সম্পাদক সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান না দেখিয়ে অগণতান্ত্রিক আচরণ করতে থাকেন। কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বিশেষ সাধারণ সভাকে অবহিত করেন এবং মো. জালাল উদ্দিনকে সভাপতি করার অপচেষ্টা করছিলেন।
তখন কার্যকরী কমিটি এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি হিসাবে হাউজে প্রস্তাব করলে তাতে অন্যরা সমর্থন দেন। কিন্তু বারের সম্পাদক রেজুলেশনে তা অন্তর্ভুক্ত না করে দ্রুত সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। 

প্রসঙ্গত গত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত বারের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন সরকার সমর্থিত প্যানেল থেকে সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু। কিন্তু করোনায় মতিন খসরু মারা গেলে বারের সভাপতি পদটি শূন্য হয়। এই শূন্য পদে সভাপতি নির্বাচনে মঙ্গলবার বারের বিশেষ সভা ডাকা হয়। সভায় সভাপতিত্ব কে করবেন তা নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল হয়। পরে আওয়ামীপন্থী  আইনজীবীরা অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি মনোনীত করেন।

ইত্তেফাক/এসআই