খরার কবলে লংলা ভ্যালির চা-বাগান

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ২১:৩৭

উত্পাদন হ্রাসের আশঙ্কা

 কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

একটানা খরা, অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহে কুলাউড়া উপজেলার লংলা ভ্যালির ২২টি চা-বাগানের উত্পাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাগান এলাকায় গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৮ দশমিক ৪৬ ইঞ্চি। চলতি বছর ঠিক একই সময়ে বাগান এলাকায় গড় বৃষ্টি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৩ ইঞ্চি। ফলে বাগানগুলোর চা সেকশনে এখন পানির তীব্র সংকট চলছে।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলার এমএম ইস্পাহানির মালিকানাধীন গাজীপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ধর জানান, গত বছর উল্লেখিত সময়ে গাজীপুর চা-বাগানের উত্পাদন ছিল ৪৭ হাজার কেজি। এ বছর পানি সংকটের কারণে উত্পাদন ৪২ হাজার কেজিতে নেমে এসেছে। ইন্দানগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বাগানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাগানের চা-ঝোপে লাল পোকার (রেড স্পাইডার) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফলে উত্পাদন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, গত চার মাস যাবত্ পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাগানগুলোর চা-গাছে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বাগানগুলোর মধ্যে যে সব জলাধার ও পাহাড়ি ছড়া ছিল সেগুলোও শুকিয়ে গেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার ফলে যান্ত্রিক উপায়ে পানি সেচের ব্যবস্থাও তেমন কাজে আসছে না। তারা আরো উল্লেখ করেন, এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাগানগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিটিআরআই (বাংলাদেশ টি রিচার্স ইনস্টিটিউট) শ্রীমঙ্গলের পরিচালক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে ভ্যালিগুলোর চায়ের উত্পাদন হুমকির মুখে পড়েছে। তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গেলে ইয়াং টির (০ থেকে ৫ বছর বয়সি চা-গাছ) গ্রোথ বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে এ বছর তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। বাগানগুলোর অনেক চা-গাছের কোষ শুকিয়ে গেছে। ফলে পাতা ছাড়ছে না। সিলেট বিভাগে ছয়টি, চট্টগ্রাম বিভাগে একটি ও পঞ্চগড়ে একটি ভ্যালি রয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী জানান, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা-বাগানগুলোর চা-গাছ ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত আমার জানা নেই। উপজেলার কৃষি অফিসার মো. আব্দুল মোমেন জানান, চা-বাগানের কোনো তথ্য তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত নেই।