গলাচিপায় বিধিনিষেধ না মেনে চলছে স্পিডবোট

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ২১:৩৭

গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

বিধিনিষেধ না মেনে দ্বিগুণ ভাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে গলাচিপায় তিনটি রুটে স্পিডবোট চলাচল করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। লকডাউনের সময় যাত্রী কম ও রুট চালাতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান স্পিডবোটের মালিকেরা। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, গলাচিপা উপজেলার বোয়ালিয়া-কোড়ালিয়া, পানপট্টি-কোড়ালিয়া ও বদনাতলী-চরকাজল লঞ্চঘাট এলাকার তিনটি রুটে স্পিডবোট চলাচল করছে। এসব এলাকায় চলাচলকারী স্পিডবোটের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা করে নির্ধারিত থাকলেও দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীকে দেওয়া হয় না লাইফ জ্যাকেট।

বোয়ালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী লিয়াকত হোসেন বলেন, বোয়ালিয়া রুটে স্পিডবোট দিয়ে যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করলে স্পিটবোট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের হেনস্তা করে। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে তার এক ছোট ভাই বোয়ালিয়া থেকে রাঙ্গাবালী যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে যায়। ঐ সময় ১২০ টাকার টিকিট, তিন জনের কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করে। এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে এ নিয়ে বাগিবতণ্ডা হয়। পরে বোয়ালিয়া বাজারের লোকজন অনুরোধ করে ৭০০ টাকায় তিন জনের টিকিট কেটে দেয়। তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ১৮ জন করে যাত্রী পারাপার করে। বর্তমানে লকডাউনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তা-ও তারা মানছে না।

বোয়ালিয়া ঘাটের স্পিডবোটের মালিক মো. নবীন খলিফা বলেন, ‘আমরা তিনটি সমিতি মিলে মোট ৭১ জন মালিক যৌথভাবে স্পিডবোটের ব্যবসা করছি। লকডাউনের কারণে যাত্রী কম হয়, লকডাউনে আমরা যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরে রাঙ্গাবালী প্রশাসনের অনুরোধে সীমিতভাবে ঘাট চালু রাখছি। যাত্রী কম, কিন্তু এলাকার মানুষের জন্য মাঝেমধ্যে দুই-একটা ট্রিপ দেই। আমাদের তেলখরচ হলেই যাত্রীদের পারাপার করি। এছাড়া আমরা কোনো অতিরিক্ত টাকা বা যাত্রী নেই না। তবে ২০০ টাকা করে না নিলে এখন আমাদের পোষায় না।’

পটুয়াখালী বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, লকডাউনের সময় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকার কথা। এ ছাড়া স্বাভাবিক সময়ে এ এলাকার স্পিডবোটে ১২ জন করে যাত্রী পারাপারের কথা রয়েছে। এতে যাত্রীদের সঙ্গে কোনো পণ্য পরিবহন করতে পারবে না। অতিরিক্ত ভাড়া ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।