এমআর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
রায়পুরে হায়দরগঞ্জ বাজারের একটি সরকারি খালের বেশ কিছু অংশ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে ক্রমশই ছোট হয়ে আসছে। ফলে একসময় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এছাড়াও এলাকার ছয় বিলে সেচ ও পানি নিষ্কাশনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, খালটির বড় একটা অংশ দখল করে প্রায় গত এক মাস ধরে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন চর আবাবিল ইউনিয়নের মিজানুর রহমান সর্দার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্থায়ীভাবে কলাম গেঁথে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান সর্দার বলেন, ‘স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। খালের মধ্যে আমাদের নিজেদের জমি রয়েছে। স্থানীয় তহশিলদার সরেজমিনে দেখে কাজ বন্ধ করতে বলেন। কাজ শুরু করার জন্য জমির কাগজপত্র জমা দিয়েছি উপজেলা সহকারী ভূমি কার্যালয়ে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করব।’ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হায়দরগঞ্জ বাজারের পাশে অবস্থিত ডি-২ খালটির দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার। খালটি রায়পুরের ডাকাতিয়া নদীতে মিশেছে। স্থানীয় লোকজনের মাছের চাহিদা মেটে এ খাল থেকে। দখলের কারণে এ খালের সঙ্গে যুক্ত চার গ্রামের ছয়টি বিলসহ খালসংলগ্ন অন্তত ২ হাজার একর জমি জলাবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম পাশে আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঐ খালের একাংশ ভরাট করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ খালের মাঝখানে পিলার (স্তম্ভ) পুঁতে দোকান নির্মাণ করেছেন। ২০ ফুট প্রস্থের ঐ খালের ১৫ ফুটই বেদখল হয়ে গেছে। এতে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধপ্রায়। বাজারসংলগ্ন খালপাড়ের দোকানি মাসুদ মিয়ার দাবি, কিছু ইজারা নিয়ে এবং অনেকে অবৈধভাবেও দোকান নির্মাণ করেছেন। তাই খাল রক্ষার্থে অবৈধ স্থায়ী পাকা স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান তারাও।
উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘ঐ খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাবেন। খাল দখল বা ভরাট হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে। খাল দখল-ভরাট করা পরিবেশ আইনের লঙ্ঘন। স্থানীয় তহশিলদারের মাধ্যমে ঐ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র দেখে মনে হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
