দরিদ্রতাই শিশুশ্রমের কারণ

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০০:৩৩

বাংলাদেশের অধিকাংশ শিশুই তাদের পরিবারের আর্থিক সংকট, সংসারের অসচ্ছলতা, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে কঠোর শ্রমে নিযুক্ত হচ্ছে। শিশুশ্রমকে দারিদ্র্যের  ফসল বলা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও ইউনিসেফ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় যে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে প্রায় ৩০১ ধরনের অর্থনৈতিক কাজেকর্মে শিশুরা শ্রম দিচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে কুলি, হকার, রিকশাচালক, ফুলবিক্রেতা, আর্বজনা সংগ্রাহক, ইট-পাথর ভাঙা, হোটেল বয়, বুননকর্মী, মাদক বাহক, বিড়িশ্রমিক, কলকারখানার শ্রমিক ইত্যাদি। বাংলাদেশের শ্রমজীবী আইন ২০০৬ অনুযায়ী ১৪ বছরের কম শিশুদের কাজ করানো হলে তা শিশুশ্রমের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। বাংলাদেশে শিশুশ্রমিকের ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সিদের মোট ১৯ শতাংশ ছেলে। ২০১৩ সালের শ্রম জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত আছে। যে হারে আমাদের শ্রমবাজারে শিশুশ্রমিকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে পুরো দেশ ও জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। বিভিন্ন সময় আমরা গণমাধ্যমে দেখতে পাই, কর্মক্ষেত্রে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শিশুশ্রমে নিযুক্ত শিশুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমন বাস্তবতায় হঠাত্ করেই শিশুশ্রম নিরসন করা যাবে না। এজন্য আগে আমাদের দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।

মো. জাহিদ আল হাসান

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ