অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগ, ব্যবসা—সবই নির্ভর করবে কত দ্রুত করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার ওপর। এজন্য আগামী বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব থাকতে হবে করোনা নিয়ন্ত্রণে। আগামী এক বছরের মধ্যে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। টিকা আমদানিসহ এ কার্যক্রমের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে। প্রাথমিকভাবে অনেক টাকা মনে হলেও এই টাকা অর্থনীতিতে ১০ গুণ বেশি ফেরত দেবে। এছাড়া দেশের মধ্যে টিকা উত্পাদনের লক্ষ্যে ব্যবস্থা রাখা এবং করোনাকে কেন্দ্র করে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বরাদ্দ রাখতে হবে। নতুন করে দরিদ্র হওয়া ১ কোটি পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার কোটি টাকা, শহরাঞ্চলে কর্মহীন হয়ে যাওয়া মানুষের জন্য শুকনো খাবার বিতরণের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কার্যকর ঋণ সহায়তার জন্য যথাযথ বরাদ্দ রাখতে হবে।
অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খুব বেশি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় হবে না, এটি সত্য। তবে বড় ঘাটতি বাজেট করলে কোন ক্ষতি নেই। প্রতি বছর ঘাটতি বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ হয়। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ঘাটতি বাজেট আরো তিন শতাংশ বাড়িয়ে আট শতাংশ করা উচিত। এই অর্থ অভ্যন্তরীণ কিংবা বিদেফশ উত্স থেকে সংস্থান করা যেতে পারে। এতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বাড়তি আসবে। এই টাকা দিয়ে বাড়তি এসব কাজে ব্যয় করা যাবে।
যদি আগামী এক বছরের মধ্যে একটি গতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়, তাহলে এর জের পরের অর্থবছরেও টানতে হবে। এই করোনা আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির তিন থেকে চার শতাংশ খেয়ে ফেলছে। চেষ্টা করতে হবে, আগামী অর্থবছরের মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনার। এর পরের (২০২২-২৩) অর্থবছরে যাতে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
শুধু টিকা আনলেই হবে না, প্রতিদিন ২০ লাখ করে টিকা দিতে হবে। প্রশাসনযন্ত্রের পাশাপাশি এর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেব মিলিয়ে অন্তত এক লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি নিয়োগ করতে হবে। এ লক্ষ্যে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা জেলা, বিভাগ এবং রাজধানীতে ব্যাপক উন্নয়ন করতে হবে। এই সুযোগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন করতে হবে। এছাড়া দেশেই টিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য স্থানীয় ভ্যাকসিন উন্নয়নের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
উন্নয়ন বাজেটে নতুন করে কোন বরাদ্দ দেওয়া ঠিক হবে না। এসএমই খাতের জন্য সহায়তা দিতে গতবারের ন্যায় কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে সফল হওয়া যাবে না। অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কার্যকর সহায়তা দিতে হবে। এজন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রণোদনার প্রয়োজন হবে।
