ভারতের টিকা না এলে টাকা ফেরত পাব :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ২২:৩৬

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিন দিতে না পারলে বাংলাদেশ টাকা ফেরত পাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন পেতে আমরা সিঙ্গেল সোর্সের ওপর নির্ভর করব না। এটা দেশের মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন।

গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভ্যাকসিনের জন্য আগাম টাকা দেওয়া হয়েছিল, এখন ভ্যাকসিন না আসলে সেই টাকার কী হবে, সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে ভ্যাকসিন আসবে না সেটা এখনো নিশ্চিত না। আমরা তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছি। আমরা যখন চূড়ান্তভাবে জানতে পারব যে ভ্যাকসিন আসবে না, তখন চূড়ান্তভাবে এটি নিয়ে কথা বলতে পারব। তিনি বলেন, যারা গ্রহণযোগ্য, যাদের ভ্যাকসিনে কোনো আশঙ্কা নেই সেসব কোম্পানি থেকেও আমরা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। সিরামের সঙ্গে চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে             কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকে তার সব শর্তই এই চুক্তিতে আছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, জুন পর্যন্ত গণপূর্তের নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। আমরা শুধু চলমান এবং বৈদেশিক সহায়তায় বাস্তবায়ন হচ্ছে এমন প্রকল্প অনুমোদ দেব।

গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলমান কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সরকারের কৃচ্ছ্র সাধন নীতির আলোকে চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন কোনো পূর্ত কাজ (নির্মাণ/স্থাপনা) এর কার্যাদেশ প্রদান করা যাবে না। তারই ধারাবাহিকতায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

সভা শেষে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আকতার বলেন, ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মোট ১৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ভারতের সৌভিক এক্সপোর্টস লিমিটেডের কাছ থেকে ১৬৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চাল ভারত থেকে রেলপথে বাংলাদেশে আসবে বলে জানান তিনি।

সভায় পেট্রোবাংলা কর্তৃক ১৩তম এলএনজি হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি এলপির কাছ থেকে ৩১৮ কোটি ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪তম এলএনজি হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি ২৯৮ কোটি ২২ লাখ টাকায় আমদানির পৃথক আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক ১ লাখ ৮০ হাজার টন এমওপি সার বেলারুশ থেকে ৪৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব এবং তিউনিশিয়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন টিএসপি সার ৭২৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় আমদানির পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অপর একটি প্রস্তাবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ এর কাছ থেকে ১৪তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৯২ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাাম (সেসিপ) প্রকল্পের আওতায় ৬৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শিক্ষা সরঞ্জাম বিতরণের জন্য লট-২ এবং ৪ এর আওতায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) কর্তৃক ১৬০টি উপজেলায় আইসিটি ট্রেনিং সংক্রান্ত প্রকল্পের পূর্ত কাজ, যন্ত্রপাতি/সরঞ্জামাদি ও সেবা কার্যক্রম কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৬০ কোটি টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদী তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পের ৬.৩ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ এবং ১৪.৭৫ কিলোমিটার ড্রেজিং কাজ খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের কাছ থেকে ৩৬৭ কোটি টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।