সিদ্ধিরগঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে অপহরণের পর হত্যা

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০০:৫০

সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া এলাকার সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করেছে অপহরণকারী। অপহূত মো. রিয়াদ (৭)-এর অর্ধগলিত লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকা থেকে গতকাল বুধবার সকালে উদ্ধার করে পুলিশ। রিয়াদ ১১ দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিল। নিহত রিয়াদ সুমিলপাড়া মুনলাইট এলাকার ভাড়াটিয়া দিনমজুর মো. রাজু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সুজন (২৭) নামে তার এক নিকট আত্মীয়কে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মুনলাইট রেললাইনের পূর্ব পাশের এলাকা থেকে গত ২৪ এপ্রিল নিখোঁজ হয় রিয়াদ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে ২৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা রাজু। পুলিশ শিশুটির পরিবার, আত্মীয়স্বজনদের মোবাইলফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে তদন্ত করে। পরে একটি নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করে শিশুটির পরিবারের কাছে ফোন করলে সেই নম্বরের সূত্র ধরে নিহত রিয়াদের চাচাতো খালু সুজনকে আটক করে পুলিশ।

শিশু রিয়াদের বাবা দিনমজুর রাজু জানান, আমাদের ও সুজনদের বাড়ি গাইবান্ধা সদরের মিয়াপাড়া পূর্ব কমলয় গ্রামে। এখানে রাজমিস্ত্রি হিসেবে দিনমজুরের কাজ করি। সুজন চর সিমুলপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকে। আত্মীয়তার সূত্রে আমাদের বাসায় সুজন যাতায়াত করত। নিখোঁজের দিন বিকালে সুজন আমার দুই ছেলেকে দোকান থেকে কেক কিনে দেওয়ার জন্য নিয়ে যায়। পরে আমার দুই ছেলে কেক নিয়ে বাসায় আসে এবং আমার বড় ছেলে রিয়াদ আবার বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করি সঙ্গে সুজনও খোঁজ করে। সুজন মাইক ভাড়া করে মাইকিংও করে। থানায় জিডি করি। পরে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে আমার কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কণ্ঠ শুনেই সুজনকে আমার সন্দেহ হয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।

 এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শওকত জামিল জানান, বুধবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের চর সিমুলপাড়া এলাকা থেকে অপহরণকারী সুজনকে আটক করি। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জালকুড়ির একটি ডোবা থেকে শিশু রিয়াদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশু রিয়াদ সিমুলপাড়ার একটি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।