সুপ্রিম কোর্ট বার

অ্যাটর্নি জেনারেলকে সভাপতি করা নিয়ে পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০১:০২

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মনোনীত করাকে কেন্দ্র করে বিবাদে জড়ানো বারের কার্যনির্বাহী কমিটির আওয়ামী ও বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতারা পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সম্মেলনে কমিটির বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতারা বলেছেন, বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছিল সভাপতি পদ পূরণে করণীয় নির্ধারণের জন্য, নির্বাচনের জন্য নয়। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো। যেটি সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে কখনো-ই কাম্য ছিল না।

অপরদিকে, আওয়ামীপন্থি আইনজীবী নেতারা বলেন, আমরা বারের গঠনতন্ত্রের ২১, ১২ এবং ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ সাধারণ সভায় এবং হাউজে সভাপতি হিসেবে এ এম আমিন উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেছি এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। অন্য কোনো পক্ষ সভাপতি হিসেবে অন্য কোনো নাম প্রস্তাব করেনি এবং সমর্থন করেনি। এমতাবস্থায় গণতান্ত্রিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে এম আমিন উদ্দিন বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বারের সম্পাদক বিএনপিপন্থি প্যানেলের ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের চর্চা করে। গণতান্ত্রিক চর্চার প্রক্রিয়া হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা আমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং সমিতির কার্যক্রম নির্বাচিতদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এটিই সকলের প্রত্যাশা। কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হবে এটি কোনো সদস্য প্রত্যাশা করে না। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির শূন্য পদ নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। সমিতি ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় কমিটিতে নির্বাচিত একই প্যানেলের আরো পাঁচ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা আওয়ামীপন্থি প্যানেলের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা বলেন, গতকালের সাধারণ সভায় আমার সভাপতিত্ব করার সিদ্ধান্ত আগেই গৃহীত হয়েছিল এবং তার রেকর্ড আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, বিশেষ সাধারণ সভা পরিচালনার সময় সম্পাদক সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান না দেখিয়ে অগণতান্ত্রিক আচরণ করতে থাকেন। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বিশেষ সাধারণ সভাকে অবহিত করেন এবং মো. জালাল উদ্দিনকে সভাপতি করার অপচেষ্টা করছিলেন।

তখন কার্যকরী কমিটি এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি হিসেবে হাউজে প্রস্তাব করলে তাতে অন্যরা সমর্থন দেন। কিন্তু বারের সম্পাদক রেজুলেশনে তা অন্তর্ভুক্ত না করে দ্রুত সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে একই প্যানেলের আরো ছয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।