খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পরিবারের আবেদন

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০১:০৩

করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিত্সাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে নেওয়ার আবেদন করেছেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটায় শামীম ইসকান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসভবনে গিয়ে আবেদনপত্রটি দিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা।

আবেদন পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, একটা আবেদন পেয়েছি। বিদেশে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিত্সার প্রয়োজন হলে ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে। আবেদনটি পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। তার উন্নত চিকিত্সা প্রয়োজন। এই সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটায় শামীম ইসকান্দার তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসভবনে গিয়ে লিখিত আবেদনপত্রটি দিয়ে আসেন। বেগম জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার বলেছেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে যেকোনো অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিদেশি হাসপাতালে চিকিত্সা প্রয়োজন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, সরকার দেশে থেকে চিকিত্সা নেওয়ার শর্ত শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোন বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে একেবারেই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া সরকারের মানবিক দায়িত্ব

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রবীণ আইনবিদ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, উন্নত চিকিত্সার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া সরকারের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এখানে আদালতের কোনো ভূমিকা নেই, এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক আদেশ। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা যে স্থগিত করা হয়েছে সেটাও সম্পূর্ণ প্রশাসনিক আদেশ। আমি আশা করব এ অবস্থায় অযথা সময় ক্ষেপন করে তার জীবনের ঝুঁকি না বাড়িয়ে, সরকার অবিলম্বে সুচিকিত্সার জন্য তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া উচিত্। এক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। কোনো দরখাস্ত ছাড়াই সরকার অনুমতি দিতে পারে। গতকাল বুধবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এ দাবি জানান।

এর আগে মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধি ৪০১ ধারার উপধারা-২ অনুযায়ী সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে। এখন এটা (বিদেশ নিতে) করতে গেলে আদালতে আসতে হবে। আমার তো তাই মনে হয়। তারপরও আমি না দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।