সাটুরিয়ায় ধলেশ্বরী এখন মরা খাল

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০৯:৫৫

ধলেশ্বরী নদীতে নাব্য সংকট। এ কারণে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার নৌপথে পাঁচটি খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ঐ চরে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধলেশ্বরী নদী প্রাণশক্তি হারিয়ে এখন মরা খালে রূপ নিয়েছে। এত দ্রুত নদী মরে যাওয়ার কারণ হিসেবে সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খান মজলিশ বলেন, নদীশাসন বা উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ নেই সরকারের। বর্তমানে নদীটি দেখে মনে হয় না যে এক সময় এ নদীতে প্রবল স্রোত ছিল। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্টদের নদীটি দখলমুক্ত ও খনন করে উপযোগী করতে অনুরোধ করেছেন। প্রাকৃতিক কারণ, ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে নদীর ওপর বালু উত্তোলন করায় নাব্য হারিয়ে এখন এটি মৃত। জেগে ওঠা চরগুলো নদীর ধারে যাদের জমি ছিল তারাই দখলে নিয়ে হালচাষ করছে।

বরাইদ গ্রামের কৃষক আনজু মিয়া জানায়, ধলেশ্বরী নদীর পাড়েই আমাদের পৈতৃক বাড়ি। ছোটবেলায় দেখতাম বাবার সঙ্গে নদীতে গোসল করতে যেতাম। নদীতে হাত দিয়ে মাছ ধরা যেত। বাবা অনেক বছর হলো পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। আমারও বয়স হয়েছে। আবাদি জমি নেই বললেই চলে। তাই নদীতে চর পড়ে আছে এমন জায়গায় গত ১০ বছর ধরে ইরি মৌসুমে ধান চাষ করি, যা দিয়ে সারা বছরের চালের ব্যবস্থা হয়ে যায়। কিছু ধান বিক্রিও করা যায়। বর্তমানে নাব্য সংকটে ধলেশ্বরীর বুকের ওপর দিয়ে মানুষ এখন ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে নিয়মিত মালামাল নেয়।

নির্মল ধরিত্রীর সাটুরিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এম নজরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আকরাম রাজা জানান, সাটুরিয়া উপজেলায় ছোট বড় প্রায় চারটি নদী আছে। তার বেশির ভাগ নদীগুলিতে পানি নেই। নদীগুলিতে পানি না থাকার কারণ হলো পানির স্তর আস্তে আস্তে অনেক দূরে চলে গেছে। দ্বিতীয়ত উজান থেকে পানি প্রবাহিত হয় না।

তৃতীয়ত বেশির ভাগ নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি থাকে না। নদী পাড়ের মানুষগুলো নদী দখলে ব্যস্ত ফলে যে যার মতো করে নদী পার ভরাট দোকানপাট বাসা বাড়ি তৈরি করছে। বিশেষ করে সুবিধাবাদী স্বার্থান্বেষী এক শ্রেণির দালাল, যারা সব সময় ক্ষমতাসীন দলের মুকুট পরিহিত ব্যক্তিরা এই নদী দখল, বালু উত্তোলন, নদীতে বর্জ্য ফেলা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন জানান, উপজেলায় ধলেশ্বরী, গাজীখালী, কালিগঙ্গা ও বংশী নদীসহ বেশির ভাগ বিল জলাশয় শুকনো। ইতিমধ্যে ১২৮ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দ পেলে বাকি খননের কাজ শেষ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর