করোনাকালে সার্বিকভাবে কেমন ঈদের সময় কাটবে সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো
করোনাকালে ঈদের অভিজ্ঞতা যেমন নতুন নয়, তেমন সুখকরও নয়। গত বছরের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে এবারও। উপরন্তু সংক্রমণের নাজুক পরিস্থিতি, আর্থিক দৈন্য এবং কঠোর বিধিনিষেধের ত্রিমুখী চাপ মানুষের ঈদ আনন্দে ভাটা ফেলবে। সরকারের চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সমাজের উচ্চবিত্তদের মানবিক সহায়তায় সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ঈদের আনন্দের ন্যূনতম রেশ উপভোগ করতে পারবে।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
সদর, বান্দরবান
ঈদকে সামনে রেখে নতুন জামাকাপড় কেনা, একটু ভালো খাওয়ার আয়োজন এবং আনন্দ বিনোদন করা আমাদের সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সাধারণ মানুষও ঈদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে ভালোভাবে ঈদ উদ্যাপন করার জন্য। করানোর ঝুঁকিতে কার্যত ঘরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। তার পরও মানুষকে জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে যেতে হচ্ছে। আবার অনেকেই লকডাউনের এই সময় স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ঘরেই থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু খেটে খাওয়া দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ একদিন কাজে না গেলে পরের দিন তাদের না খেয়ে থাকতে হয়। করানোর প্রভাবে এবং বারবার লকডাউনের কারণে সার্বিকভাবে মানুষের আয় কমে গেছে। আমাদের দেশে ঈদকে সামনে রেখে মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে চলে যায় এবং আত্মীয়স্বজন মিলে একসঙ্গে ঈদ করে। কিন্তু এবার লকডাউনে কারণে দূরপালার লঞ্চ, ট্রেন ও বাস বন্ধ থাকায় মানুষ গ্রামে যেতে পারছে না। আর যারাই গ্রামে যেতে চাচ্ছে বা যাবে, তাদের যাত্রা পথে কষ্ট করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে দেশের সব বিনোদন পার্ক এবং পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে ঈদে মানুষ আনন্দ বিনোদনের জন্য বাইরে যেতে পারবে না। তাই বলা যায়, মহামারি করোনার কারণে ঈদুল ফিতর উদ্যাপনে সার্বিকভাবে জনজীবনে মন্দা প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।
কামরুজ্জামান
শ্রীপুর, গাজীপুর।
মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও উত্কণ্ঠাহীন মানসিক স্থিতি ছাড়া কোনো উত্সবই প্রাণ পায় না। করোনার চরম ক্রান্তিকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই আর্থিক বিপর্যয়ের শিকার। গত ঈদের আগে এই অদৃশ্য শত্রুর প্রথম আঘাতে আর্থিক অবস্থার বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবারও ঈদের মাসাধিক কাল আগে আবার নতুন তরঙ্গের ভয়াবহ ধাক্কায় জনজীবন অনেকটাই নিষ্প্রাণ। প্রকট হয়েছে অনিয়মিত ও নিম্নআয়ে জীবনের চাহিদা মেটানো নিম্নবিত্ত ও মধবিত্ত শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগ। চলমান দুঃসময়ে অনিবার্য ক্ষুধার তাড়না সামলিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাড়তি চাহিদা পূরণ করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই ঈদের নতুন পোশাক ও রসনা তৃপ্তির চেষ্টা তাদের কাছে বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাছাড়া, ঈদ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন লকডাউন গুম করবে শিশুসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ঈদ উত্সবের স্বাভাবিক আনন্দ।
আবু ফারুক
বনরূপা পাড়া, বান্দরবান।
করোনাকালে মানুষের আর্থিক দুরবস্থা ক্রমশ বাড়ছে। ক্রয়মতা হ্রাস পাওয়া ছাড়াও লকডাউনের কারণে ঈদের চিরাচরিত আনন্দ আয়োজন এবার অনেকটাই নিষ্প্রাণ হতে বাধ্য।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।
করোনাকালে আর্থিক দুর্দশার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদের আনন্দ তাত্পর্যপুর্ণ হবে না। সমাজের বিত্তবান ও সমপদশালীদের উচিত করোনাকালীন এ দুঃসময়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
মনোজ কুমার বিশ্বাস
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
চলমান করোনা ক্রান্তিকালের উপর্যুপরি আঘাতে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা অনেকটা পঙ্গু। স্বল্প ও অনিয়মিত আয়ের মানুষ বর্তমানে জীবনের অত্যাবশ্যকীয় সব চাহিদা পূরণে কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য করোনাকালীন ঈদ দীর্ঘশ্বাসেরই উপলক্ষ্য।
আবুল কাশেম
বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।
করোনাকালে দেশের মানুষ ভালো নেই। করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুতে অনেক পরিবারে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনাকালে দেশের সব শ্রেণির মানুষ যাতে ঈদ উত্সব ভালোভাবে উদ্যাপন করতে পারে সেজন্যে সরকার অতি দরিদ্রদের জন্য ত্রাণের চাল, কাজের বিনিময় খাদ্য, টেস্ট রিলিফ, ভিজিএফ ভিজিডি, বয়স্কভাতা, গর্ভবর্তী ভাতা, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তভাতা, করোনাকালীন প্রণোদনা ও সহায়তা প্রদানে কার্পণ্য করেনি।
ফারুক আহমেদ
বাগমরা, রাজশাহী
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ-উত্সবমুখর দিন। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে মানুষের ঈদ কেমন কাটবে সে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। করোনার কারণে মানুষের জীবনজীবিকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেকেই ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে পারবে না। ঈদের তিনদিনের ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও শিল্প কারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে থাকতে হবে। সবমিলিয়ে ঈদে সবার আনন্দটাকে ভাগ নিয়ে জীবন চলার পথ খুঁজতে হবে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও প্রকোপ চলছে বৈশ্বিক মহামারি করোনার। এবারের ঈদ মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, দরিদ্র ও হত দরিদ্রদের জন্য অনেক কষ্টদায়ক হবে। তবুও ঈদ কেটে যাবে এক রকমভাবে। সংকট মোকাবিলায় গ্রাম-শহরসহ দেশের প্রতিটি জনপদে লকডাউনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।
আল মায়ামী
ফুলবাড়িয়া, সাভার
করোনার কারণে আমাদের বর্তমান সময় অস্থিরতা ও দুর্ভাবনার মধ্যে কাটছে। ঈদের মধ্যেও এই অস্থিরতা এবং দুর্ভাবনা পুরোপুরিভাবে কেটে যাওয়ার সম্ভবনা নেই । সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যক্তিরা ঈদের মধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তবে যারা বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন তারা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছেন। আমাদের প্রত্যাশা, পোশাকশিল্পে যারা কাজ করেন, তারা যেন ঈদের আগেই বেতন ও বোনাস ঠিকমতো পান। সবার ঈদ সুন্দর ও আনন্দদায়ক কাটুক এটিই প্রত্যাশা।
মাখরাজ খান, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
জীবনের মূল্য সবচেয়ে বেশি এ-কথাটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। করোনা মহামারি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রতিটি বছরই তো আমরা ঈদ আনন্দে মেতে উঠি। এবার না হয় একটু কষ্ট করে মানিয়ে চলতে হবে। সংক্রমণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে লকডাউনের মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমরা আশা করব লকডাউনে ঘরের বাইরে ও কর্মক্ষেত্রে সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।
অ্যাড. এস কে মো. রমিজউদ্দিন
কাকরাইল, ঢাকা
করোনার কারণে সবাই আতঙ্কে রয়েছে। সামনে আসন্ন ঈদুল ফিতর। অত্যন্ত আনন্দের দিন এটি। কিন্তু এবার একটু সহনীয়ভাবে চলাচল করতে হবে।স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে। তারপরও থেমে নেই অতিউত্সাহীদের ঈদ বাজার। বেঁচে থাকলে আনন্দের সাথে ঈদ করা যাবে-এটি মনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
হোসেন আরা বেগম নীলা
হাজারীবাগ, ঢাকা
করোনাকালে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব ভালো নয়। এসময় অধিকাংশ নাগরিকদের ঈদ কাটবে চরম বিষণ্নতায়।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
গুলশান
করোনাকালে মানুষের আয় না বাড়লেও আয়ব্যয়ের বৈষম্য বেড়েছে। করোনার মধ্যে এবারের ঈদুল ফিতর খুব একটা ভালো কাটবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে অর্থ নেই, কর্ম নেই, প্রণোদনা নেই। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশিত ব্যবসায়-বাণিজ্য নেই, পাশাপাশি চাকরিচ্যুতদের বেকারত্ব, হতাশা—সবমিলিয়ে তাদেরও অসহনীয় দিন কাটছে। তারপরও আমাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
মো. ইফতেয়ার হোসাইন লিটন,
হাইমচর, চরভৈরবী
করোনর আতঙ্কে আসন্ন ঈদ সার্বিকভাবে অস্বস্তির মধ্যেই কাটাতে হবে। গত বছরের চেয়ে এবারের করোনার সংক্রমন তীব্র হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমাদের দেশে করোনার রোগীদের সুচিকিত্সার জন্য টিকা এবং দেশব্যাপী পর্যাপ্ত পরিমাণে আইসিইউর বেড প্রস্তুত রাখা আর প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সুব্যবস্থা বৃদ্ধির প্রতি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সবাকেই এগিয়ে আসা জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারলেই এই মহামারি থেকে আমরা নিষ্কৃতি পেতে পারি ।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
চিনাই, বি. বাড়িয়া
সাধারণ মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকার কারণে করোনাকালীন ঈদ প্রত্যাশাজনক কাটবে না। এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। লকডাউনে মানবেতর জীবনযাপন কাটছে নিম্ন আয়ের মানুষদের, স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। অন্যদিকে করোনার এই সময়ে পারিবারিক ঝগড়াবিবাদ, হিংসা বেড়েছে। তাই ঈদের আনন্দ অন্যান্য বছরের মতো হবে না। এরপরও প্রত্যাশা থাকবে, সবার ঈদ হোক সুন্দর ও আনন্দময়।
প্রহরী মনিরুজ্জামান
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
ঈদের ছুটিতে মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাস্তায় যাতায়াত করে—সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ঈদ পালনের সময়ে যেন অধিক লোকের সমাবেশ না ঘটে এবং প্রত্যেকেই স্বাস্থ্যবিধি মান্য করে—সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে ঈদে যাত্রীগণ ঘন ঘন পরিবহন পরিবর্তনের বিড়ম্বনায় পড়বে। নদী পারাপারের ক্ষেত্রে খেয়ানৌকা, ইঞ্জিন চালিত নৌযান, স্পিডবোট এবং সড়কপথে টেম্পো, সিএনজি, অটোরিকশা, বাস ইত্যাদিতে চলাচলের ক্ষেত্রে যে যেখানে দায়িত্বে আছেন, সে যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন সে ব্যাপারে তদারকি বাড়াতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি আছে কি-না, সেটি দেখাভাল করার জন্য স্পেশাল টহল এবং মোবাইল টিম গঠন করে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে হবে। সকল বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্প-কলকারখানার মালিকগণ যদি সদিচ্ছার মাধ্যমে সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ করে, তবে এবারের ঈদ আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।
মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
