স্পোর্টস ডেস্ক
২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ দেখেছিল অল ইংলিশ ফাইনাল। এক মৌসুম না যেতে আবারও ইউরোপ সেরার মঞ্চে দুই ইংলিশ ক্লাবের ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে ফুটবল অনুরাগীরা। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে ইস্তাম্বুলের টিকিট নিশ্চিত করেছে চেলসি। যেখানে আগে থেকে তাদের অপেক্ষায় রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রথম লেগে রিয়ালের মাঠ থেকে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফিরেছিল চেলসি। ২৯ মে ফাইনাল।
এওয়ে গোল নিয়ে ফেরায় বুধবার রাতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে গোলশূন্য ড্র হলেই চলত চেলসির। তা সত্ত্বেও নিজের ছাত্রদের রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলাননি চেলসি কোচ টমাস টুখেল। প্রতি আক্রমণে উঠে রিয়াল রক্ষণকে তছনছ করে দাও, এই ছিল তার মূলমন্ত্র। যা পালনে সফলও তার ছাত্ররা। ম্যাচের ২৮ মিনিটেই প্রতি আক্রমণে উঠে গোল করে বসে চেলসি। গোল খাতায় নাম ওঠে টিমো ভেরনারের। প্রথম লেগে দুর্দান্ত খেলা এনগোলো কান্তে এবারো কারিগরের ভূমিকায়। রিয়াল বক্সের সামনে ভেরনারের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে কাই হাভার্টজকে পাস দেন কান্তে। চেলসির জার্মান মিডফিল্ডারের চিপ ক্রস বারে লেগে নামার সময় শুধু মাথা ঠুকে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারেন ভেরনার।
প্রথমার্ধে রিয়াল ৭২ শতাংশ সময় বল দখল রেখে গোলমুখে মাত্র দুটি শট রাখতে পারে। সে দুটিও করিম বেনজেমার একক প্রচেষ্টায়। তবে চেলসি কিপার এদুয়ার্ড মেন্ডির বিচক্ষণতায় দুইবার বল ঠেকিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধেও রিয়াল বল পজিশনে এগিয়ে রইলেও সুযোগ বুঝেই ত্রাস ছড়ান কান্তে, হার্ভার্টজ, মেসন মাউন্টরা। রিয়ালের কপাল ভালো থিবো কোর্তোয়া গোলবারের নিচে দুরন্ত ছিলেন। নয়তো কমপক্ষে চারটি গোল হজম করতেই হতো রিয়ালকে। ম্যাসন মাউন্টের একটি শট পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। কান্তে-হাভার্টজরা একা পেয়েও কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেননি।
মাউন্ট অবশ্য নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট আগে গোল করে রিয়ালের বিদায় নিশ্চিত করে ফেলেন। এবারো গোলের কারিগর সেই কান্তে। এই ফরাসি মিডফিল্ডারের পাস থেকে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ ক্রস বাড়ান মাউন্টকে। ম্যাচে সহজ সহজ সব গোল মিস করলেও এবার চেলসির পক্ষে আর গোল করতে ভুল হয়নি এই ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের। ফলে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে উঠে যায় চেলসি।
আগের রাতে ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলার কাছে যেমন মার খেয়েছে পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো, তেমনি এবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে টুখেলের কৌশলের কাছেই হার মানতে বাধ্য হয়েছেন জিনেদিন জিদান। অবশ্য ম্যাচ জুড়ে তার নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত এডেন হ্যাজার্ডকে খেলান তিনি। গত জানুয়ারির পর মাত্র দ্বিতীয়বার মূল একাদশের হয়ে খেলতে নামা এই বেলজিয়ান তারকা পুরোটা সময় ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। হ্যাজার্ডের ম্যাচ ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ম্যাচের পর। সের্হিও রামোসও এক মাস পর রিয়ালের জার্সি গায়ে নেমে রক্ষণে ছিটেফোঁটা সুবিধাও করতে পারেননি। অবশ্য এই প্রথম কই! টুখেলই তো একমাত্র কোচ, যিনি রিয়ালের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে অদম্য। প্রথম পাঁচ দেখাতে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা ছয়ে নিয়ে গেলেন তিনি।
সংখ্যাতত্ত্বে
১ ইতিহাসের প্রথম ম্যানেজার হিসেবে দুই মৌসুমে দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠলেন জার্মান কোচ টমাস টুখেলের। গেলবার ফরাসি ক্লাব পিএসজিকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। অবশ্য শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ না, ইউরোপিয়ান কোনো প্রতিযোগিতাতে এই রেকর্ড নেই আর কারো।
৩২ রিয়ালের বিপক্ষে চেলসির বল পজিশন। এর চেয়ে কম বল পজিশন নিয়েও অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে জেতার রেকর্ড আছে ক্লাবটি। ২০১২ সালে আরেক স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে ২১ ভাগ সময় বল পায়ে রেখে ম্যাচ জেতে ব্লুজরা।
৪ ফাইনালে ওঠার আগে চেলসির গোল হজমের সংখ্যা। আরেক ফাইনালিস্ট ম্যানচেস্টার সিটিও আসরে মাত্র ৪ গোল হজম করেছে। ২০০৫-০৬ মৌসুমে পর এবারই প্রথম দুই দল এত কম গোল হজমের রেকর্ড নিয়ে ফাইনাল খেলবে। আগের ওই রেকর্ডটা ছিল আর্সেনাল (২) ও বার্সার (৪)।
৩ তৃতীয়বারের মতো অল ইংলিশ ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। এর আগে, ২০০৮ সালে চেলসি-ম্যানইউ এবং ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল-টটেনহাম। ফাইনালে ইংল্যান্ড ছাড়াও, স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর তিনবার একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার রেকর্ড আছে।
৮ চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে চেলসি কিপার এডুয়ার্ড মেন্ডির ক্লিনশিট সংখ্যা। কোনো ইংলিশ ক্লাবের হয়ে ইউরোপ সেরার এই আসরে এতোগুলো ম্যাচে গোল না হজমের রেকর্ড নেই আর কারো গোলরক্ষকের।
