তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
তালার দলুয়া-শুক্তিয়া সড়কটির ১.৭ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। বালি ফেলার জন্য প্রায় ৮ মাস আগে সড়কটি খুড়ে রাখা হয়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কটি বর্তমানে পানিতে তলিয়ে একাকার। দূর থেকে বোঝার উপায় নেই এটি সড়ক, নাকি খাল। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খুড়ে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের দলুয়া অঞ্চলের শত শত মানুষ। তারা দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের দরপত্র হওয়া ১.৭ কিলোমিটার সড়কটির উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে খুলনার মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক বছর আগে সড়কটি উন্নয়ন করার কার্যাদেশ পান। কিন্ত ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি না করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেয়। ঐ প্রতিষ্ঠান ৯ মাস আগে কাজ শুরু করে সড়কের দলুয়া বাজার থেকে টিকারামপুর পর্যন্ত মাটি কেটে বালি ফেলার জন্য রেখে দেয়।
ইউপি সদস্য গনেশ বর্মণ ও পথচারী মো. আব্দুল আজিজ, সেলিম, লুত্ফর রহমানসহ স্থানীয়রা জানান, গত দুই দিন আগে হঠাত্ সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় সড়কটিতে পানি জমে কাদা হয়ে গেছে। এর ফলে কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষকে চলাচলের জন্য দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর আগে বোরা ধান কেটে ওই সড়ক দিয়ে চাষীরা কেউ কোন যানবাহনে করে তাদের উত্পাদিত ফসল বাড়িতে আনতে পারেনি। সড়কটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে হাটবাজারসহ কোথাও যেতে পারছে না। স্থানীয় খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যার মোজাফ্ফর রহমান জানান, সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করা জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, তালা উপজেলা ও সাতক্ষীরা জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একাধিক বার জানানো হয়েছে। তারপরও কাজ শেষ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে এসএস এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার আব্দুল মাজেদ জানান, কাজটি তার প্রতিষ্ঠানের করার কথা থাকলেও কাজের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে তালা অঞ্চলের ঠিকাদার খোকন ও বুলুকে। কিন্ত তারা কাজটি শুরু করার পর দীর্ঘদিনেও শেষ করেনি। ঈদের পর আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়কটি উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। তালা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী রথীন্দ্র নাথ হালদার জানান, সড়কটির ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমান কয়েক দফায় আমাকে জানিয়েছেন। সড়কের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি। কাজ শেষ না করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
