যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ৪০ লাখ ডোজ টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ২২:৫৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১ থেকে ২ কোটি ডোজ করোনার টিকা চাওয়া হয়েছে। তবে দেশের চলমান টিকা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে টিকা আনার জন্য মার্কিন দূতাবাস কী করছে সে সম্পর্কে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত মিলার।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অক্সফোর্ডের ৬ কোটি ডোজ টিকা অতিরিক্ত রয়েছে। আমরা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য ১ থেকে ২ কোটি ডোজ টিকা চেয়েছি। সরকার এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে, সেখানে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে ৪০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন চাওয়া হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাকে বলে গেলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে। আমি রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, ভ্যাকসিন আমাদের অগ্রাধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতকে দেবে তখন যেন বাংলাদেশের কথা খেয়াল রাখে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ভারতকে কোনো টিকা দেয়নি বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য সরকার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে কবে টিকা আসবে, কতটুকু আসবে—সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে। তবে দেশটির সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার ভিত্তিতে তারা ভ্যাকসিন দেবে বা কো-প্রোডাকশনে যাবে। সে প্রস্তাব এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করে দেখছে।

মূলত ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছিল। এখন সরকার বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।