পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ১৭তে উন্নীত

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ০০:৩২

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিপিএমের সহযোগী দল ইন্ডিয়ান সিকিউলার ফ্রন্টের (আইএসএফ)? একজন নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের সরকারকে দেওয়া সতর্কবার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সহিংসতা নিয়ে অবিলম্বে রিপোর্ট না পাঠালে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। ভোট পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে তদন্ত করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি দল পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছে। রাজ্য থেকে ফেরার পর ঐ দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দেবে।

এদিকে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতাদের মতে, বিজেপি নেতাদের উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরেই রাজ্যে অশান্তি হচ্ছে। গণ্ডগোল না করে মানুষের রায় মেনে নেওয়া উচিত বিজেপির। যদিও বিজেপি ওই অভিযোগকে নাকচ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ?নির্বাচনে পরাজয়ের পরও বিজেপির নেতা, মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গে এসে প্ররোচনা দিচ্ছেন। উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। দাঙ্গা করতে চাইছেন। বিজেপি এই পরাজয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তাই নতুন রাজ্য সরকারের শপথগ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গের আইন?শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল চলে এসেছে। 

তিনি বলেন, ফেক নিউজ ছড়িয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের বদনাম করছে। কারো মৃত্যু হোক আমি চাই না। বিজেপি রাজনৈতিক খেলা খেলছে। ?দিল্লি থেকে যে মন্ত্রীরাই আসুক না কেন, তাদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া কাউকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ?পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা করতে দেব না। মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারকেও অর্থ সাহায্য করা হবে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে অর্থ সাহায্য করা হবে। এই সাহায্য সামান্যই। তবে সাহায্য করার ক্ষেত্রে কোনো ভেদাভেদ করা হবে না। রাজনৈতিক রং বাড়তি গুরুত্ব পাবে না। নিহত ব্যক্তি বিজেপির কর্মী হোন বা সংযুক্ত মোর্চার কিংবা তৃণমূলের—প্রত্যেকের পরিবার এই সরকারি অর্থ সাহায্য পাবেন।