পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে সেমিস্টার পরীক্ষাও নেওয়া যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় ১৪ মাস ধরে বন্ধ থাকার পর সরকারের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্ত এলো।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আটকে আছে। এ অবস্থায় কীভাবে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে আমরা একটি গাইডলাইন তৈরি করেছি। গাইডলাইনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। তাদের অনুমোদনের পর তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ঐ গাইডলাইন অনুসারে তাদের পরীক্ষা পদ্ধতি ঠিক করবে।
ইউজিসির গাইডলাইনে বলা হয়েছে, যে কোনো বিষয়ের তত্ত্বীয় পাঠদান শেষে তার চুড়ান্ত মূল্যায়ন অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। তবে যে সব ব্যবহারিক কোর্স হাতেকলমে কাজ করা ব্যতীত সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তা অবশ্যই সুবিধাজনক সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইন-পারসন ক্লাস করে সম্পন্ন করতে হবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব বিষয়ের বিপরীতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান পদ্ধতি ও স্কেলে গ্রেড প্রদান করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ তাদের জন্য উপযোগী অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার সুস্পষ্ট পদ্ধতি গ্রহণ করবে। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্, ইন্টারনেট সংযোগ, ইন্টারনেট স্পিড, ডিজিটাল ডিভাইস, কোশ্চেয়ন সেটিংস, অসাধু পন্থা অবলম্বন ও আন্তর্জাতিকভাবে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সব নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদিত হতে হবে। হাতেকলমে কাজ করার প্রয়োজন নেই এমন ব্যবহারিক বিষয়েও চূড়ান্ত নম্বর দেওয়া যাবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থী যদি অনলাইনে পরীক্ষা দিতে না চায় সেক্ষেত্রে তাদের চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কোনো ইউনিভার্সিটি যদি মনে করে সে অনলাইন না নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অফলাইন পরীক্ষা নেবে সেটিও তারা করতে পারবে। অর্থাত্ কাউকে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন নিতে হবে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ থাকায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
