‘হুনছি অনেকেই ঘর পাইছে। যাদের আছে তারাও পাইছে। আমারতো কিছুই নাই। আমারে একটা ঘর দিতে কইয়েন, যেন পয়-পুলাপান নিয়ে নিজের ঘরে শান্তিতে শুয়ে মরতে পারি। কত জন ঘর পাইল আমার একটা ঘর হইল না। সহায় সম্বল কিছুই নাই। দুই ছেলে মানসিক রোগী, দুই মেয়ে বিধবা। এদের নিয়ে আমি অন্যের ঘরের বারান্দায় থাকি। যে বারান্দায় থাকি সেখানে চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি, জায়গা হয় না। ভাঙা বেড়া। ছেঁড়া কাপড়-চোপড় দিয়ে ঘেরাও করে রাত-দিন পার করছি।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ সব কথা বলেন, ছাহেরা বেওয়া নামে ৭৫ বছরের এক বিধবা।
ছাহেরা বেওয়া সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম বেপারী পাড়ার মৃত সবে বেপারীর স্ত্রী। স্বামী থাকা অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে সুখে না হলেও কিছুটা স্বস্তিতে দিন কাটছিল তার। এরপর বিধবা ছাহেরা বেওয়ার জীবনে নেমে আসে দুঃখের অমানিশা। শুরু হয় সংগ্রামী জীবন। ছাহেরা বেওয়া অন্যের বাড়িতে মাটি কেটে, ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে দিন পার করেন। এখন তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ। কাজ করতে পারেন না। অর্থের অভাবে ওষুধ কিনে খেতে পারেন না। অভাব আর অসুখ তার নিত্যদিনের সঙ্গী। ভালো খাবার তো দূরে থাক দুই বেলা দুই মুঠো ভাতও জোটে না । অন্যের বাড়ির বারান্দায় পাখির বাসার মতো ছেঁড়া কাপড়ে ঘেরা একটি আশ্রয়স্থল। একটু বৃষ্টি হলেই টিনের ফুটো দিয়ে বিছানায় পানি পড়ে। রাত জেগে বসে থাকতে হয় তাদের।
জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত্ হোসেন বলেন, ‘ছাহেরা বেওয়ার মতো অসহায় ব্যক্তিরাই ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’ ঘর পাওয়ার উপযুক্ত। এখানে আরো অনেকে আছেন, যাদের ঘর দেওয়া দরকার। কিন্তু আমাদেরতো দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এটা এমপি দিয়ে থাকেন। এরপরেও তালিকায় ছাহেরা বেওয়ার নাম রেখেছি। পরবর্তীতে যাতে তিনি ঘর পান।’ এলাকাবাসী জানায়, অসহায় ছাহেরা ঘর না পেলেও এমপি মমতাজের স্বজনদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার খালার নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাতে তারা না থেকে ভাড়া দিয়েছেন। ভাড়াটিয়া দুলাল বেপারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার এই ঘর ও জমি বিক্রির জন্য ৪০ লাখ টাকা দাম চেয়েছে এমপির খালাত ভাই।
