গাছের নীচে রাতের বেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে
আসাদ-উজ-জামান, শিক্ষক
সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
উদ্ভিদে গ্যাস বিনিময়
উদ্ভিদ জীবনে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এ দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদে গ্যাসীয় (CO2 ও O2) বিনিময় ঘটে। প্রক্রিয়াটি নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:
১। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের জন্য পরিবেশ থেকে CO2 গ্রহণ করে, যা পানির সাথে বিক্রিয়া করে O2 উত্পন্ন করে।
২। উত্পন্ন O2 পত্ররন্ধ্র, লেন্টিসেল এর মাধ্যমে বাইরের পরিবেশে বের করে দেয়।
৩। দিনের বেলা সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উত্পন্ন O2 এর কিছু অংশ শ্বসন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়।
৪। শ্বসন প্রক্রিয়ায় উত্পাদিত CO2 গ্যাসের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহূত হয় এবং বাকী অংশ বাইরের
পরিবেশে মুক্ত হয়।
এভাবে আদান-প্রদানকৃত O2 ও CO2 গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান থাকে এবং প্রক্রিয়াটি চক্রাকারে চলতে থাকে।
গাছের নীচে রাতের বেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে:
রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে, ফলে O2 গ্যাস উত্পন্ন হয় না। অন্যদিকে, শ্বসন প্রক্রিয়া দিবা-রাত্রি সব সময়ই সংঘটিত হয়, ফলে CO2 গ্যাসের উত্পাদন চলতে থাকে, যা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে পরিবেশে মুক্ত হয়। এজন্য গাছের নিচে রাত্রিবেলা ঘুমালে O2 এর অভাবে শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে।
চিত্র:উদ্ভিদে গ্যাস বিনিময়
শ্বসন (Respiration):
যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহের খাদ্যবস্তু অক্সিজেন সহযোগে জারিত হয়ে শক্তি উত্পন্ন করে এবং বাইরে নির্গত হয়, তাকে শ্বসন বলে।
C6H12O6 + 6O2 6CO2 + 6H2O + শক্তি
গ্লুকোজ + অক্সিজেন কার্বন ডাই অক্সাইড + পানি + শক্তি
শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system):
যে অঙ্গগুলোর সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালিত হয় তাদেরকে একত্রে শ্বসনতন্ত্র বলে। নিম্নলিখিত অঙ্গগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত। যথা:
১। নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ
২। গলবিল
৩। স্বরযন্ত্র
৪। শ্বাসনালী/ট্রাকিয়া
৫। ব্রঙ্কাস
৬। ফুসফুস
৭। মধ্যচ্ছদা নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ :
নাসিকার সম্মুখে এবং মুখগহবরের উপরে অবস্থিত ত্রিকোণাকার গহবর। নসারন্ধ্র থেকে গলবিল পর্যন্ত নাসাপথ অবস্থিত। এর সামনের অংশ লোমে আবৃত এবং পশ্চাত্ অংশ শ্লেষা যুক্ত পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত।
কাজ: ১। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধুলিকণা, রোগ জীবাণু লোমে আটকে যায়।
২। বায়ু ফুসফুসে প্রবেশের পূর্বে এখান থেকে কিছুটা শুষ্ক ও আর্দ্র হয়।
৩। নাকের সাহায্যে কোনো বস্তুর সুগন্ধ বা দূর্গন্ধ বোঝা যায়।
গলবিল (Pharynx):
নাসাপথের পশ্চাত্ ভাগ থেকে স্বরযন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত নালী বিশেষ। এর পশ্চাত্ ভাগের উপরিতলে জিহবার মতো ছোট অংশ থাকে, একে আলা জিহবা বলে।
স্বরযন্ত্র (Larynx) :
এটি গলবলের নিচে ও শ্বাস নালীর উপরে অবস্থিত। এর দুই পাশে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে। এর উপরে একটি জিহবা অকৃতির ঢাকনা থাকে একে এপিগ্লটিস বলে।
কাজ: ১। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় এপিগ্লটিস খোলা থাকে ফলে বাতাস এ পথে ফুসফুসে যায়।
২। খাবার গ্রহণের সময় এটি স্বরযন্ত্রের মুখ ঢেকে দেয়।
শ্বাসনালী (Trachea):
স্বরযন্ত্রের নিচের অংশ থেকে একটি ফাঁপা নলের সৃর্িষ্ট হয়েছে একে শ্বাসনালী বলে। এর প্রাচীর কতকগুলো অর্ধ বলয়াকার তরুনাস্থি দ্বারা গঠিত। এর অন্ত:প্রাচীরে সুক্ষ্ম লোম যুক্ত মিউকাস আবরণী থাকে।
কাজ: অপ্রয়োজনীয় বস্তুর প্রবেশ রোধ করে।
ব্রঙ্কাস (Bronchus):
শ্বাসনালী ফুসফুসের নিকটবর্তী এসে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে ডান ও বাম ফুসফুসে প্রবেশ করে। এদের কে ব্রঙ্কাই বলে। প্রতিটি ব্রঙ্কাস আবার অসংখ্য শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এগুলোকে ব্রঙ্কিওল / অণুক্লোম শাখা বলে।
