সাধন সরকার
বাংলাদেশে নতুন বছর শুরু হয় বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এ বছরটা যেন একটু ব্যতিক্রম! এমনিতেই করোনা মহামারির কারণে জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। তার ওপর তীব্র দাবদাহে জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ। অনেক দিন পর বিভিন্নস্থানে বিক্ষিপ্তভাবে মাঝেমধ্যে খুব অল্প বৃষ্টির দেখা মিলছে। দেশজুড়ে পানির জন্য হাহাকার চলছে। সামগ্রিকভাবে দেশের সবখানে অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। বহু স্থানে হস্তচালিত নলকূপ দিয়ে পানি উঠছে না। প্রাকৃতিক অনেক জলাশয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা অনেকাংশে কমে গেছে। ঢাকাসহ জনবহুল স্থানসমূহে ভূগর্ভ থেকে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর প্রতি বছর একটু একটু করে নিচে নেমে যাচ্ছে। পানি সংকটে সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে হাজার হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১২৪টি উপজেলা নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল। সেচকাজের জন্য মাত্রাতারিক্ত পানি তোলার কারণে সেখানে প্রতি বছর পানির স্তর ২ থেকে ৩ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। বরেন্দ্র এলাকায় সেচকাজের জন্য খাল খনন করলেও খালও পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। দুই-তিন দশক আগে বরেন্দ্র অঞ্চলে ৬০ থেকে ৭০ ফুট নিচে পানি পাওয়া যেত। আর এখন পানির স্তর সেখানে ১৫০ ফুটের বেশি নিচে নেমে গেছে। গভীর নলকূপ বসিয়েও বরেন্দ্রভূমিতে প্রয়োজনের মাত্র অর্ধেক পানি পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামে পানির স্তর অতিমাত্রায় নিচে নেমে গেছে। অনেক সময় গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলার ফলে ভূগর্ভের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার প্রমাণ মিলছে।
রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে নগরবাসীর পানির চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিকাজেও পানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভের পানি তুলতে তুলতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর একটু একটু করে নিচে নেমে যেতে থাকলে একটা সময় গিয়ে ভূগর্ভ থেকে আর পানি উঠবে না। তাই ভূগর্ভের পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। নাসার এক গবেষণা বলছে, পৃথিবীর ভূগর্ভে পানির যত মজুদ আছে তার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাই শুকনো মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হলে নদ-নদীর দূষণ বন্ধ করে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সব ধরনের জলাশয় সংরক্ষণ করা, যাতে শুকনো মৌসুমেও জলাশয়ের পানি সেচকাজে ব্যবহার করা যায়। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। নগরের বাসাবাড়ির ছাদে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা গেলে প্রয়োজনের সময় তা অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
ঢাকা
