দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে জরুরি ভিত্তিতে ৪ হাজার ৫০০ চিকিত্সক ও নার্স নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২৩ মে থেকে ৪২তম (বিশেষ) বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে ২ হাজার চিকিত্সক ও ২ হাজার ৫০০ নার্স নিয়োগের সুপারিশ করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে আরো বুধবার ১ হাজারের মতো দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম গ্রেড) মিডওয়াইফ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, পিএসসির নিয়োগ কার্যক্রমগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা একদিনও নষ্ট করব না। লকডাইন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিত্সক ও নার্স নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করে স্বল্পসময়ে শেষ করা হবে। সরকার থেকে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার তাগিদ আছে বলে জানান তিনি।
করোনার প্রকোপ বেড়ে গেলে সব বিসিএসের কার্যক্রম স্থগিত করে পিএসসি। স্থগিতের আগে গত ৩০ মার্চ সরকারি চিকিত্সক নিয়োগে ৪২তম বিশেষ বিসিএসের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার। এর মধ্য থেকে ২ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
করোনা ভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে ২ হাজার চিকিত্সককে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দিতে গত বছর ৪২তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৩১ হাজার চিকিত্সক অংশ নেন। আগামী ২৩ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ৩০ জুন। মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে কমিশন।
এদিকে, করোনার কারণে গত ৩১ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এখন এটি জরুরি শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দশম গ্রেডের এ পদের লিখিত পরীক্ষা গত ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। স্থগিত হওয়ার পর পুনরায় আগামী ৯ মে এই পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে সেটিও স্থগিত করা হয়েছে। তবে লকডাউন শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
পিএসসি সূত্র জানায়, যেহেতু পরীক্ষার তারিখ আগে দুইবার দেওয়া হয়েছে সেহেতু পরীক্ষার জন্য কম সময় দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পিএসসিকে চিঠি দিয়েছে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। তারা এই পরীক্ষা কম সময়ে নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছে। শিগিগরই কমিশন সভা করে এটি জানিয়ে দিবে। পরীক্ষার তারিখও দেওয়া হবে।
গত বছরের ১ মার্চে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র স্টাফ নার্সে পদের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ বলা হয়েছিল। গত ২৮ জানুয়ারি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি এমসিকিউয়ের ফল প্রকাশ করে পিএসসি। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৫ হাজার ২২৮ জন প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে নেওয়া হতে পারে।
মিডওয়াইফ পদের ফল প্রকাশ :স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ (১০ম গ্রেড) পদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে কমিশন। এতে ১৪১৫ জন উত্তীর্ণ হন। সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে গত ২০ মার্চ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চিকিত্সক-নার্সদের মতো দ্রুত সময়ে মিডওয়াইফ পদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
