নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে জমজমাট জুয়া

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ২২:১৭

 

ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকা জুয়াড়িদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। লকডাউনের সুযোগে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ক্লাবে চলছে মজজমাট জুয়ার আড্ডা। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ এসে র্যাবের একটি দল সদর থানা থেকে ৫শ গজ দূরে অবস্থিত ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার টাকাসহ ২২ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করে। তারপর দিন র্যাব সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আরো ১২ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করে। গত মাসের শেষের দিকে সোনারগাঁয়ের জামপুরে গ্রামবাসী জুয়ার আস্তানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সব জুয়াড়িরা শহরের বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মাছঘাট থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু জুয়াড়িকে আটক করে। এই সব জুয়াড়িদের  বিরুদ্ধে মামলা হলেও সামান্য জরিমানা দিয়ে আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে,আবার কেউ অফিস ভাড়া নিয়ে জমজমাট জুয়ার আড্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাবে বেশ কয়েকবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালানোর পরও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই জুয়ার আড্ডা চলছে বলে সুতা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। তারা ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের মত একটি জাতীয়ভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের ক্লাবে নিয়মিত এই জুয়ার আড্ডার কারণে হতাশা ব্যক্ত করে এর ইন্ধনদাতাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, যারা জুয়ার আড্ডার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের কেউ জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। যে কোন মূল্যে জুয়ার আসর নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্মূল করা হবে। এদিকে জানা গেছে,  গত ১৭ এপ্রিল র্যাবের অভিযানে ২২ জন জুয়াড়ি গ্রেফতার হওয়ার পর ক্লাব সদস্যরা সভাপতি লিটন সাহার সমালোচনা করছেন।   ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ- দীর্ঘদিন ধরেই ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাবে জুয়ার আসর থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকা কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন সভাপতি লিটন সাহা। এ ব্যাপারে লিটন সাহা দাবি করেন, জুয়ার আসরের সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।