ফেরিতে উপচে পড়া ভিড়

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ২২:৪৭

কেউ পিকআপ ভ্যানে, কেউ ভাড়া করা গাড়িতে, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ-বা আবার অটোরিকশায়। যে যেভাবে পারছে ছুটছে গন্তব্যে। করোনার সংক্রমণ রুখতে আছে দূরপাল্লার বাস চলাচলের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। আছে স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা। তবে এতকিছুর পরও ঈদকে সামনে রেখে ঘরে ছুটছে মানুষ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গাবতলীতে গিয়ে দেখা যায়, বেশি ভাড়া গুনে হাজারো মানুষ ছাড়ছে ঢাকা। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটেও আছে যাত্রীদের চাপ। ‘আসন্ন ঈদে যে যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানেই থাকুন’— করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের এই অনুরোধ অধিকাংশই  রাখছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও তোয়াক্কা করছেন না অনেকে, ব্যবহার করছেন না মাস্ক। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আরো কয়েক দিন বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে প্রচণ্ড চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া ঘাটে। শত শত যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত লকডাউন শিথিল করে পাঁচ নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা শহরগুলোতে বাস চালানোর অনুমতি দিলেও চালকরা তা মানছেন না। বাসের অর্ধেক সিট ফাঁকা না রেখেও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বাস চালানো হচ্ছে। নিয়ম মানছেন না কেন—জানতে চাইলে বাসের চালক আরিফ হোসেন বলেন, ঘরমুখী মানুষের চাপ বেশি। নিষেধ করলেও যাত্রীরা বাসে উঠছেন। এছাড়াও অনেক যাত্রী নিয়ম অনুয়ায়ী ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া দিতে চান না। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডা হয়। গুলিস্তান এলাকায় গাদাগাদি করে বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রী তোলা হলেও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কোনো সদস্যকে তত্পর হতে দেখা যায়নি। আন্তঃজেলা বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর রুটে বাস চলাচল করছে। গাবতলী, গুলিস্তান, পল্টন ও উত্তরায় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

রায়েরবাগ চেকপোস্টে দায়িত্বরত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পরিদর্শক এম সোহেল বলেন, এ রুটে পরিবহন সংকটের কারণে যাত্রীদের কেউ কেউ জোর করে গাড়িতে উঠছেন। তবে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। বিভিন্ন পরিবহন বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে এ রকম বেশকিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রী বেশি নেওয়ায় বিভিন্ন পরিবহন ও চালকের নামে মামলা করা হয়েছে।

উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে পোস্তগোলা রুটে চলাচল করা রাইদা পরিবহনের অন্তত অর্ধশতাধিক বাসে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখা যায়, তাদের কোনো গাড়িতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হয় না। থুতনির নিচে মাস্ক ঝুলিয়ে হেলপাররা হাঁকডাক করে যাত্রীদের ধরে বাসে তুলছে। কয়েকটি বাসের ভেতর গিয়ে দেখা যায়, কিছু কিছু যাত্রীও মাস্ক খুলে গাড়িতে বসে আছেন।

শিমুলিয়ায় এক ফেরিতেই ১২০০ যাত্রী

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে চলমান লকডাউনের মধ্যে গতকাল শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মা নদী পার  থেকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ফেরিতে ওঠেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। লকডাউনে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও জেলার ভেতরে বাস চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট যানবাহন, এমনকি পণ্যের ট্রাক বা পিকআপে চড়েও অনেকে ঢাকা থেকে ভেঙে ভেঙে শিমুলিয়ায় আসছেন পদ্মা পার হয়ে দক্ষিণের জেলাগুলোতে যাওয়ার জন্য। গতকাল সকালে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে শিমুলিয়া থেকে ফেরিতে কোনো যানবাহন উঠতে পারেনি। সকাল ৮টার দিকে রোরো ফেরি এনায়েতপুরী কোনো যানবাহন ছাড়াই ১ হাজার ২০০ যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়।

দৌলতদিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঢল

গতকাল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছিল। মানুষের নাড়ির টানে বাড়িতে যাবার জন্য অতিরিক্ত ভাড়ায় গাড়িতে উঠছে গাদাগাদি করে। ঈদ উদ্যাপন করতে বাড়ির উদ্দেশে ছুটছে মানুষ। রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই। এর চাপ পড়েছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই চলছে যাত্রী পারাপার। দক্ষিণ অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করছে এ ঘাট দিয়ে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ জানান, নদী পারের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এখন ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। ফেরিতে যানবাহনের চেয়ে যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।