ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চলা আদালত কার্যক্রমের আওতায় দেশের আদালতসূমহ থেকে করোনাকালে জামিন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ জন কারাবন্দি হাজতি, যাদের সবাই বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি বা হাজতি ছিলেন। বিপুলসংখ্যক এই বন্দি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় চাপ কমেছে কারাগারে। ফলে কারাগারে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দিদের নিয়ে যে বিপদের আশঙ্কা করছিল, তা থেকেও অনেকটা চিন্তামুক্ত থাকতে পেরেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশের কারাগারগুলোতে সব সময়ই ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি বন্দি অবস্থান করে। সেক্ষেত্রে করোনাকালে জামিনে লাখো হাজতির মুক্তি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনার প্রথম ঢেউ চিহ্নিত হয়। তখন থেকেই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে স্বল্প পরিসরে চলছে আদালতের কার্যক্রম। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চলা আদালতের কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় কারবন্দি আসামির জামিন শুনানি ও নিষ্পত্তি করা। প্রথম দফায় গত বছরের ১১ মে থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৮ কার্যদিবস বিচার কার্যক্রম চলে। এই সময়ে সারা দেশে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ফৌজদারি মামলায় জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করেন বিচারকেরা। এর মধ্যে জামিন পান ৭২ হাজার ২২৯ জন কারাবন্দি। এরপর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে কঠোর লকডাউন আরোপ করা হলেও দেশের আদালতসূমহে সীমিত পরিসরে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ৪ মে পর্যন্ত মোট ১৬ কার্যদিবসে সারা দেশে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ৫১ হাজার ৮৮২টি মামলায় জামিনের দরখাস্ত ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। এতে মোট ২৭ হাজার ৮৪৪ জন হাজতি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এই সময়ে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে মোট জামিনপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩৬৭। অর্থাত্, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে দুই দফায় পরিচালিত ভার্চুয়াল আদালতে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২২১টি ফৌজদারি মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৩ জন হাজতি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারামুক্তি পেয়েছেন।
গত বছরের মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। তখনই সরকার লকডাউনের ঘোষণা দেয়। করোনার সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের রক্ষায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকার ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ জারি করে। এই অধ্যাদেশ জারির পরই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধস্তন আদালতে জামিনসংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর গত ১০ মাস ধরে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে বিচারকাজ চলছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চলা এসব ভার্চুয়াল আদালতে আইনজীবীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে চলছে কোর্টসমূহ। এতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীরা মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে বজায় থাকছে সামজিক ও শারীরিক দূরুত্ব। থাকছে না করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি।
