বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ২২:৫০

আল্লাহর জিকির আযকারের মাস হলো রমজান। পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারবৃন্দ অনেকেই সারা রাত জেগে থাকেন। সালাতুত তারাবির নামাজের পর কিছু সময় বিশ্রাম করে মুমিন বান্দাগণ আবারও মশগুল হয়ে যায়, সালাতুত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার জন্য। মানুষকে আল্লাহপাক সৃষ্টিকুলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন এবং নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করার জন্য বিশেষ নিয়ামত কথা বলার শক্তি দান করেছেন। যার মাধ্যম হচ্ছে—রসনা বা জিহ্বা। এই জিহ্বা নামক আল্লাহর এই নিয়ামতটি ভালো এবং মন্দ উভয় কাজে ব্যবহার করা যায়। যে ব্যক্তি নিজের জবানকে ভালো বিষয়ে ব্যবহার করবে সে দুনিয়ায় সৌভাগ্য লাভ করবে। আখিরাতে জান্নাতের সর্বোচ্চ আবাস লাভে ধন্য হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তাকে মন্দ ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে সে উভয় জগতে ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। পবিত্র       কোরআন তিলাওতের সময়কে কাজে লাগানোর জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে মহান আল্লাহর জিকির। রসুলে পাক (স.) এরশাদ করেন যে, মাছালুল লাযি ইয়াজকুরু রাব্বাহু ওয়াল লাযি লা ইয়াজকুরু রাব্বাহু মাছালুল হাইয়ি ওয়াল মাইয়িতি। অর্থাত্ যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে না তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো। (বুখারি) আল্লাহর রসুল (স.) আরো বলেন যে, ছাবাকাল মুফাররাদুনা ক্বালু। ওয়ামাল মুফাররাদুন ইয়া রসুল্লাল্লাহ। ক্বালা আয যাকিরুনা কাছিরাও ওয়াজ জাকিরাত। অর্থাত্ মুফাররিদুনগণ এগিয়ে গেল। সাহাবিগণ বললেন মুফাররিদুনগণ কারা হে আল্লাহর রসুল (স.)? তিনি বললেন, অধিক হারে আল্লাহর জিকিরকারী নারী ও পুরুষ। (মুসলিম)

রসুলে পাক (স.) জনৈক সাহাবিকে নছিহত করে বললেন, লা ইয়াজালু লিছানুকা রুতবান মিন যিকরিল্লাহ অর্থাত্ তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা মহান আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে। (তিরমিজি)। সুতরাং মাহে রমজানে অনেক রোজাদার তাহাজ্জুদের নামাজের আগে অথবা পরে আল্লাহর জিকিরে মশগুল হয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ পাক সব রোজাদারকে মহান আল্লাহর জিকির আযকারসহ মাহে রমজানের পূর্ণাঙ্গ হক আদায়-ইবাদত করার তাওফিক দান করুন আমিন।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ