সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন নিয়ে এবারও সংশয় দেখা দিয়েছে। বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারনির্ধারিত মূল্য কম হওয়ায় এই আশঙ্কার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাজারে কেজি ৪৫ টাকার নিচে কোনো চাল বিক্রি হচ্ছে না। আর ধান বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩০ টাকার বেশি। অন্যদিকে সরকার ধান কেজি ২৭ টাকা ও আতপ চাল কেজি ৩৯ টাকা ও সিদ্ধ চাল কেজি ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। গতবারও সরকারনির্ধারিত মূল্য বাজারমূল্যের চেয়ে কম হওয়ায় সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে সাড়া মিলেনি।
সরকারিভাবে এবার সাড়ে ১১ লাখ টন চাল ও সাড়ে ৬ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এবার ৫ হাজার ৪৩১ টন ধান, ২ হাজার ৮২৯ টন সিদ্ধ চাল ও দেড় লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৭ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। তবে বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গতবার বোরো মৌসুমে কেজি ২৬ টাকা দরে ধান, ৩৭ টাকা দরে সিদ্ধ চাল ও ৩৬ টাকা দরে আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল; কিন্তু তার চেয়ে বাজারদর বেশি হওয়ায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গঠিত কমিটি বাজার বিশ্লেষণ করে ধান-চাল সংগ্রহের দর নির্ধারণ করেছে। ধান ৮০/৯০ শতাংশ কর্তনের পর বাজার মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। এখনো মিল-মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাছাড়া সারকারিভাবে প্রচুর চাল আমদানি করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চট্টগ্রামে বোরো ধান কর্তন পুরোদমে চলছে। ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় ৩৫ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে। ফলনও এবার ভালো হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, বর্তমানে বাজারে কেজি ৩০ টাকার ওপরে ধান বিক্রি হচ্ছে। আর ৫০ টাকার নিচে কোনো চাল নেই। উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গত বছর বোরো মৌসুমে ধান কেজি ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল কেজি ৩৭ টাকা ও ৩৬ টাকা আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বাজারমূল্যের চেয়ে দর কম হওয়ায় ধান-চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এবার বাজার দরে তারতম্যের কারণে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মিল-মালিকরা জানান, সরকার এক সঙ্গে ধান এবং চাল সংগ্রহ করায় সমস্যা হচ্ছে। এক মাস ব্যবধানে সংগ্রহ করলে সুফল পাওয়া যেত। মিল-মালিক আবুল বশর ইত্তেফাককে বলেন, সরকার যে দর নির্ধারণ করেছে সেই দরে ধান সংগ্রহ করা গেলেও চাল সংগ্রহ হবে না। চালের দাম কেজিতে আরো দুই-তিন টাকা বাড়াতে হবে। দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম এলাকার ব্যবধান রয়েছে। কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম এলাকায় ধান-চালের মূল্য বেশি। এখানে ঘাটতি এলাকা হওয়ায় দাম বেশি থাকে। আমাদের সঙ্গে সরকারের চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।’
চাল বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে আতপ মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে খুচরায় অনেক ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে। মোটা আতপ চাল পাইকারিতে কেজি ৩৯/৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
