পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ২৩:০০

একটি চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ এই সপ্তাহের মধ্যেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কখন এবং পৃথিবীর কোন অংশে এটি পড়বে, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল চীনের ওয়েনচ্যাং স্পেস কেন্দ্র থেকে লং মার্চ ফাইভবি রকেটটি উেক্ষপণ করা হয়েছিল। মহাকাশে এই রকেটের ধ্বংসাবশেষ এখন পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে এবং এটি বায়ুমণ্ডলের নিম্ন স্তরে ঢুকছে। যার মানে হলো—এটি পৃথিবীর চারদিকে বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নেমে আসছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, তারা ধ্বংসাবশেষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। সেটিকে গোলা ছুড়ে নিচে নামিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, আমরা আশা করছি যে, এটি সমুদ্র বা এমন জায়গায় ধসে পড়বে যেখানে কারো কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি পরোক্ষভাবে চীনের সমালোচনা করে বলেন, যে কোনো পরিকল্পনা এবং অভিযান পরিচালনার সময় এই ধরনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়াটা খুব জরুরি।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গত কয়েক দিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, এই রকেটের ধ্বংসাবশেষ জনবহুল অঞ্চলে বিধ্বস্ত হতে পারে, আবার আন্তর্জাতিক জলসীমাতেও পড়তে পারে। মহাকাশ বিশেষজ্ঞ সং ঝংপিংয়ের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমস বলেছে যে, চীনের স্পেস মনিটরিং নেটওয়ার্ক এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে নজর রাখবে এবং কোথাও কোনো ক্ষতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আর্থ অবজারভেটরি সিঙ্গাপুরের জেসন স্কট হেরিন বিবিসিকে বলেন, মধ্যাকর্ষণ টানের ফলে এই ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে আরো ঘন বায়ুমণ্ডলের দিকে নামতে থাকবে, এর ফলে মধ্যাকর্ষণ টান এবং নিচের দিকে নেমে আসার গতিবেগ আরো বাড়তে থাকবে। একবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে, বস্তুটি একটি নির্দিষ্ট দিকে নিচের দিকে ধেয়ে আসতে থাকবে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডল ক্রমেই ঘন হতে থাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষের বেশির ভাগ আগুনে পুড়ে যাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। যে অংশগুলো পুড়বে না সেগুলোই পৃথিবীতে ভেঙে পড়বে।

২০২০ সালের মে মাসে লং মার্চ ফাইভ-বি নামের আরেকটি রকেট চীন থেকে উেক্ষপণ করা হয়। সেটির ধ্বংসাবশেষ পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টের গ্রামেগুলোতে পড়ে বলে জানা যায়। এর মধ্যে ১২ মিটার বা ৩৯ ফুট দীর্ঘ ধাতব পাইপও ছিল। যদিও ঐ ঘটনায় কেউ আহত হননি। রকেটের এই ধ্বংসাবশেষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হবে নাকি সেটা নিয়ে চীনের মহাকাশ সংস্থা এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোনাথন ম্যাকডোয়েল বলেন, এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আছড়ে পড়ার বিষয়টি লং মার্চ ফাইভবি-এর একটি বড় সমস্যা। মার্কিন বা ইউরোপীয় রকেটগুলো বিশেষভাবে নকশা করা হয় যেন কক্ষপথে বড় কোনো অংশ ছিটকে না পড়ে।

মাফিয়া ডন ছোটা রাজনের

ইত্তেফাক ডেস্ক

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাফিয়া ডন ছোটা রাজনের মৃত্যুর গুঞ্জন উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে হঠাত্ই তার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই খবর প্রকাশ্যে আসার আধঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি পুলিশ জানায়, খবরটি আদৌ সত্য নয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার 

গত ২৬ এপ্রিল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছোটা রাজনকে দিল্লির এমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও গতকাল জানিয়েছে, মৃত্যুর খবর সঠিক নয়। ৬২ বছর বয়সি মাফিয়া ডন ছোটা রাজন হূদেরাগ ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। এরই মধ্যে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ায় তার শারীরিক জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। যদিও গতকাল শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি চিকিত্সকরা।

২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেফতার করা হয় ডন ছোটা রাজনকে। এর পর থেকে তিনি দিল্লির তিহার জেলে বন্দি। গত ২৬ এপ্রিল তার করোনায় আক্রান্তের খবর জানায় জেল কর্তৃপক্ষ। দিল্লির একটি দায়রা আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল ছোটা রাজনের। জেল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছিল, কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় হাজিরা দিতে পারবেন না ডন। পরে ঐদিনই ছোটা রাজনকে এমসে ভর্তি করানো হয়। মহারাষ্ট্রে চাঁদাবাজি এবং হত্যাসহ ৭০টি মামলায় অভিযুক্ত রাজন।