ঈদে মার্কেটগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২১:৪৮

স্বাস্থ্যবিধি মানায় অনীহা

 ইত্তেফাক ডেস্ক

ঈদের মাত্র আর কয়েক দিন বাকি আছে। এরমধ্যে বিভিন্ন স্থানে মার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা। তবে মার্কেটগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। করোনার ঝুঁকির মধ্যেই মার্কেট ও বিপণীবিতানগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

জয়পুরহাট: জেলা শহর জয়পুরহাটে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠলেও দেখা যায়নি সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আগ্রহ। শনিবার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাব থাকলেও সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। আবার ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে মাস্ক ব্যবহার কম লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড়ে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা শহরের নিউমার্কেট, সদর রাস্তা, পূর্ব বাজার কাপড় পট্টি, এনামুল হক মার্কেট, মীনা বাজার ও হকার্স পট্টির, মৌসুমী, শাহাজান আলী মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানে অনেক ভিড় দেখা গেছে। রোজা শুরুর পর লকডাউন থাকায় বেচা-বিক্রিতে একটু ভাটা পড়লেও এখন লকডাউন শিথিল করায় শেষ পর্যায়ের বেচা কেনা পুরোদমে চলছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। লেডিস ওয়ার্ল্ডের মালিক জাহেদা কামাল বলেন, আগের চেয়ে এবার কাপড়ের কোয়ালিটি অনেক ভালো। সে তুলনায় দাম খুব বেশি নয়। সাজ লেডিস কালেকশনের মালিক নাসরিন আকতার বলেন, ক্রেতারা তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে কেনাকাটা করছেন। তবে দূরপাল্লার যানবাহন না থাকায় দোকানের মালামাল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তারা। পূর্ব বাজার কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি শফি বিশ্বাস বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচা বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষের ভিড় বেশি হওয়ায় অনেক সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। এদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ মাস্ক ব্যবহার না করলে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী।

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম): চন্দনাইশের শপিংমলগুলোতে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে শপিংমলগুলোতে চলছে কেনাকাটার ধুম। সব মার্কেটেই বিভিন্ন বয়সের নারী কিংবা পুরুষের জটলা দেখা গেছে। সরকার ঈদকে সামনে রেখে লকডাউন তুলে নেওয়ায় চন্দনাইশে মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় পড়েছে। উপজেলার গাছবাড়িয়ায় গনি সুপার মার্কেট, ছিদ্দিক বাছুরা শপিং সেন্টার, এনুমিয়া শপিং সেন্টার ছাড়াও দোহাজারী শপিং সেন্টার, হাজারী টাওয়ার ও সিটি সেন্টারগুলোতে সকাল-সন্ধ্যা ক্রেতোদের ভিড় দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধির বালাই বলতে কিছুই নেই। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এবং শাহ মজিদিয়া ক্লথ স্টোরের মালিক আবু নোমান জানান, দোকান মালিকরা স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা করে যাচ্ছি। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার জন্য মালিক সমিতিকে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর): স্বরূপকাঠিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলছে ঈদের কেনাকাটা। উপজেলার মিয়ারহাট, জগন্নাথকাঠি ও ইন্দুরহাট বন্দরের বিপণীবিতানগুলো ঈদের কেনাকাটায় এখন সরগরম। সরেজমিনে মিয়ারহাট বন্দরে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণ উপেক্ষা করে গার্মেন্টস, শাড়ি-কাপড়ের দোকান, জুতা ও কসমেটিকস দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ক্রেতারা একে অন্যের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেষি করে কেনাকাটা করছেন। বিশেষ করে পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিপণীবিতানগুলো ছাড়াও ফুটপাতের দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। তবে দুই একটি দোকানে প্রবেশের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার করলেও বেশির ভাগ দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।