সৈয়দপুরে সংকটে শ্রমজীবী মানুষ

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২১:৫৬

করোনা সংক্রমণ

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

দেশে চলমান বিধিনিষেধের সময় সৈয়দপুরে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া সামনে ঈদ, তাদের নেই কোনো প্রস্তুতি। পরিবহন শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, সাধারণ দোকানদার এবং ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার খেটে খাওয়া মানুষ জানান, কাজ না থাকায় এসব পেশার মানুষের হাতে টাকা নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

হাট-বাজারে জনসমাগম কমার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ও পাইকাররা জীবিকা নিয়ে হুমকির মুখে পড়েছেন। সীমিত পরিসরে যেসব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা কাজ করছেন তারা রয়েছেন স্বাস্থ্য ও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে। এছাড়া স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয়ে তাদের কাজে নিচ্ছেন না অনেকে। এসব দিনমজুর সকাল ৭টার মধ্যে শহরের রেলওয়ে কারখানার গেটের পাশে ঈদগাহ মাঠে, মিস্ত্রিপাড়া মোড়, রেললাইনের ধারে, রাবেয়া মিল এলাকায় সমবেত হচ্ছেন। তবে এদের মধ্যে শতকরা কয়েক ভাগ কাজ পাচ্ছেন। অধিকাংশ লোকজন কোদাল, ডালি, দা ও কাজের উপকরণ নিয়ে কয়েক ঘণ্টা বসে থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পাঠানপাড়া থেকে আকাশ আলী বিষাদু বলেন, ‘বিধিনিষেধ চলাকালে মাত্র তিন দিন কাজ পেয়েছি। খেয়ে না খেয়ে কোনোরকমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেঁচে আছি।’ মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে কাজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন একই ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল রব্বানী। কিন্তু তিনি কাজ পাননি। শনিবার বেলা ১২টার দিকে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘টানা সাত দিন কাজ পাইনি। বাড়ির লোকজন ঠিকভাবে খেতে পাচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের ঈদের জামাকাপড় কেনা যায়নি।’ সৈয়দপুরে বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কাজ করেন। তারাও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন পার করছেন। নীলফামারী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মমতাজ আলী বলেন, ‘এক বছর থেকে করোনাকালীন সময়ে আমরা বড় দুঃসময় পার করছি। ইউনিয়নের তহবিল থেকে শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হয়েছে। শ্রমিকদের বর্তমান দুর্দশা কীভাবে দূর করব, সেটি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আমরা রয়েছি।’ এদিকে হোটেল শ্রমিকরাও ভালো নেই। শহীদ ডা. জিকরুল হক রোডের জিআরপি হোটেলে কাজ করেন সোহেল। তিনি বলেন, আগে হোটেলে ১০ ঘণ্টা কাজ করলে ৪০০ টাকা পেতাম। এখন বড়জোর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কাজ হয়। এ কারণে মালিক পারিশ্রমিক দেন মাত্র ২০০ টাকা। এ টাকা দিয়ে সংসার চলে না। সোহেলের মতো সৈয়দপুরের প্রায় সব হোটেল শ্রমিকের একই অবস্থা। এছাড়া সমস্যায় রয়েছেন ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী এবং দোকান মালিকরা। শহরের রেলওয়ে গুমটি পুলিশ বক্সের কাছে রিকশাভ্যানে পোশাক বিক্রি করেন রফিক মিয়া। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে পুলিশ ফুটপাতে বসতে দিচ্ছে না। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহম্মেদ জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে সারা দেশে অসহায় ও দরিদ্রদের দেওয়া হচ্ছে নগদ সহায়তা। ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা পাচ্ছেন নীলফামারীর ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫ জন। যেখানে সৈয়দপুর উপজেলায় ৪৪ হাজার ৩২৬ জনকে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা দেওয়া হবে। তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে ৪৫০ টাকা করে।’