মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঘিওরের বানিয়াজুড়ি ও নালী দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে খিড়াই নদী। বহু আবেদন সত্ত্বেও এ নদীতে নির্মাণ হয়নি একটি সেতু। তাই সেতুর অভাবে যুগযুগ ধরে কাঠ-বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হয়ে আসছে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। আর বর্ষাকালে নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। সেতুর অভাবে একদিকে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় অন্যদিকে তেমনি এলাকাবাসী আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। অথচ একটি মাত্র সেতু বদলে দিতে পারে এই দুই ইউনিয়নের মানুষের জীবন এবং জীবিকা। দীর্ঘদিন স্থানীয়রা সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, দুই ইউনিয়নের খিড়াই নদীর ওপর বাঁশ ও কাঠের সাঁকো ব্রিটিশ আমল থেকে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থে নির্মাণ হয়ে আসছে। ভোটের সময় এলাকায় এসে অনেকেই বলেছিলেন, পাশ করলে এটা তৈরি করে দেবেন। নির্বাচন কত হলো, কত সরকার গেল-এলো এখনো কেউ কথা রাখেননি। এলাকাবাসী জানান, এ সাঁকো দিয়ে নানা ধরনের যানবাহন পারাপার হয়। পারাপারের সময় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলা সেতু ভেঙে পড়ে আহত হয়েছে। স্থানীয় কেল্লাই মনসুর উদ্দিন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইস্কান্দার মীর্জা বলেন, অত্র এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী এ সাঁকো দিয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। অনেক শিক্ষার্থী বইখাতা নিয়ে পড়ে আহত হয়েছে। কিন্তু সেতু হলো না।
নালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মধু জানান, খিড়াই নদীর ওপর সাঁকো এলাকার কৃষকরা কৃষি পণ্য আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঐ এলাকার কৃষকরা পণ্য নিয়ে জেলা শহরে বা বানিয়াজুড়ি বাসস্ট্যান্ড আসতে যেখানে ২০ টাকা লাগার কথা সেখানে ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে শতাধিক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সাজ্জাকুর রহমান জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে একটি সেতু নির্মাণে প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। বিপিপিতে প্রকল্পটি প্রস্তাবনায় রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে, অচিরেই বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
