সম্প্রচার নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বিসিবি

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২২:২৭

শ্রীলঙ্কা সিরিজ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া এবং বিধি-নিষেধের নতুন নীতিমালা আসায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিসিবি। চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। হোম সিরিজের টিভি সম্প্রচারই এখন বিসিবির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সাধারণত বাংলাদেশের মাটিতে যে কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজের সম্প্রচারে কাজ করেন ভারতীয় ক্রুরা।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক। যে নিয়মের কারণে সাকিব-মুস্তাফিজও কোয়ারেন্টাইনে আছেন। কিন্তু একই নিয়ম বহাল থাকলে ভারতীয় ক্রুদের নিয়ে সিরিজ সম্প্রচার কঠিন হয়ে পড়বে। বেশিরভাগ সময়েই সিরিজে ৩-৪ দিন আগে এসে কাজ শুরু করেন ক্রুরা। ৩০-৪০ জনের ক্রুদের বহরকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা প্রায় অসম্ভবই বটে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিসিবি অন্য পথে হাঁটার চিন্তা করছে। ভারত ছাড়া বাইরের দেশগুলো থেকে ক্রু আনার চেষ্টা করছে বিসিবি। এছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জটিলতা নিরসনের আশা করছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে সিরিজ সম্প্রচার নিয়ে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে তিনি বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ। তারপরও সরকারে প্রটোকোল আছে। আমরা চেষ্টা করছি এই প্রটোকোলের মধ্যে থেকে যদি কোনো ক্রুর আসা দরকার হয় তাদের আনা যায় কি না। এছাড়া আমরা অন্য অপশনগুলো দেখছি। বিশ্বের অন্য যেসব দেশে ক্রিকেট হচ্ছে সেসব জায়গা থেকে ক্রু এনে খেলাগুলো চালাব।’

এখনো সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি হয়নি। তবে অনিশ্চয়তার কিছু দেখছেন না বিসিবির প্রধান নির্বাহী। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘সিরিজ অনিশ্চিতের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। চ্যালেঞ্জ তো আছেই। যাতে এই ধরনের জটিলতা এড়ানো যায়।’

সাকিব-মুস্তাফিজের

কোয়ারেন্টাইন কমানো

ভারত থেকে ফেরা সাকিব-মুস্তাফিজকে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হলে সিরিজের জন্য তাদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি পড়বে। ইতিমধ্যে সাকিব করোনা পরীক্ষায় একবার নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন। বিসিবির প্রধান নির্বাহীর আশা, করোনা নেগেটিভ হলে দুই ক্রিকেটারের কোয়ারেন্টাইন কমতে পারে।

নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে কাজ করছি। আমরা জাতীয় দলেরটা দেখছি। যারা ভারত থেকে আসছেন তাদের প্রটোকোলটা ভিন্ন। আরো কঠিন। তাদেরটা নিয়েও কাজ করছি। আশা করছি সে ব্যাপারেও ইতিবাচক কিছু পাব।’

করোনাকালে বিদেশ ফেরত সাধারণ যাত্রীদের জন্যই নিয়মগুলো করেছে বাংলাদেশ। তবে সারা বিশ্বে খেলাধুলার জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। যাত্রীবাহী বিমানের আসা ব্যক্তি ও খেলাধুলার ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আলাদা নিয়ম থাকা উচিত। বাংলাদেশেও তেমন কিছুর প্রয়োগ দেখতে চায় বিসিবি।

এদিকে শ্রীলঙ্কা ফেরত ক্রিকেটাররা একবার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট পেলেই অনুশীলনে যোগ দেওয়ার সবুজ সংকেত মিলেছে সরকারের কাছ থেকে।