দূরপাল্লার পরিবহন চালাতে চান মালিকরা, বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২২:৫৪

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে দূরপাল্লার পরিবহন চলাচলের অনুমতিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকের সংগঠনগুলো। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ঈদের নামাজ শেষে সারাদেশের মালিক ও শ্রমিক নিজ নিজ এলাকায় বাস ও ট্রাক টার্মিনালে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। এছাড়া ঈদের পরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে এ ঘোষণা দেয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি।

তিনি বলেন, পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি পালন নিশ্চিতের দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু এই দায়িত্ব আমাদের দেওয়ার আগে সরকারের দায়িত্ব—এটা আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া। শুধু বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে করেন। তারা মাঠের সেন্টিমেন্ট, মালিক শ্রমিকদের সেন্টিমেন্ট বোঝেন না, জনগণের সেন্টিমেন্টও বোঝেন না। ফেরির অবস্থাটা কী একবার চিন্তা করেছেন। ফেরিতে এখন যে উপচে পড়া ভিড় যাচ্ছে সেখানে কি ঝুঁকি বাড়ছে না? শ্রমিকদের বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞ, আমাদের মতামত নিন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাজাহান খান। তিনি বলেন, গত ৬ মে থেকে লকডাউন শিথিল রেখে মহানগর ও জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন পরিচালনার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। কিন্তু, দূরপাল্লার  গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা,  মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ, জেনারেল সেক্রেটারি মো. আবু রায়হান, বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে শাজাহান খান  বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার পরিবহনসহ সব ধরনের গণপরিবহন এবং স্বাভাবিক মালামাল নিয়ে পণ্য পরিবহন চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। লকডাউনের কারণে কর্মহীন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আসন্ন ঈদের আগে আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হবে। লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মালিকদের যানবাহন মেরামত, কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস ইত্যাদি দেওয়ার জন্য নামমাত্র সুদ ও সহজ শর্তে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায়, ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র দুই থেকে আড়াই লাখ শ্রমিক সরকারের অনুদান হিসেবে আড়াই হাজার করে টাকা পেয়েছে।

শাজাহান খান আরো বলেন, সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আসন্ন ঈদের আগে ও পরে ১০ টাকায় ওএমএস-এর চাল বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। কোভিড ১৯-এর কারণে গণপরিবহন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে সব ব্যাংক ঋণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ মওকুফসহ কিস্তি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত  স্থগিত করতে হবে এবং দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে ক্লাসিফায়েড ঋণগুলো আনক্লাসিফায়েড করতে হবে।

দূরপাল্লার বাস চালুর বিষয়ে সরকার কোনো আশ্বাস দিচ্ছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি দেননি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে বলেছেন। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো ফলাফল পাইনি। কয়েক দিন ধরে ফেরি ও দূরপাল্লার কিছু বাস কীভাবে চলছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কী করব।