ইসরাইলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরোধী নেতা ইয়াইর ল্যাপিদকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন। তিনি চার সপ্তাহ সময় পাবেন সরকার গঠন করতে। এরই মধ্যে তিনি বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার ল্যাপিদ গঠন করতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইসরাইলে একটানা ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তবে এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় গত এক মাস ধরে চেষ্টার পরও তিনি সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ছিল তার সরকার গঠনের শেষ দিন। ঐদিন তিনি সরকার গঠন করতে পারছেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর বুধবার ল্যাপিদকে আমন্ত্রণ জানান প্রেসিডেন্ট। নেতানিয়াহুকে সরকার গঠন করতে হলে আরব ইসলামিস্ট পার্টির সমর্থন লাগবে। কিন্তু তার জোটের ইহুদিবাদী একটি দল কড়া আপত্তি জানিয়েছে। সাবেক সাংবাদিক এবং অর্থমন্ত্রী ল্যাপিদের পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে ৫৬ এমপির সমর্থন রয়েছে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরো বাকি। কিছু সমস্যা থাকলেও ল্যাপিদ সরকার গঠন করতে পারবেন বলে প্রেসিডেন্ট আশা করেন। মনোনয়ন গ্রহণ করার পর ল্যাপিদ জানিয়েছিলেন, তিনি বাম, ডান এবং মধ্যপন্থিদের নিয়ে সরকার গঠন করবেন। এর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হবে যে আমরা কেউ কাউকে ঘৃণা করব না। তবে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কারণ নেতানিয়াহু দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বলে ৫৭ বছর বয়সি ল্যাপিদ উল্লেখ করেছেন। এদিকে নেতানিয়াহু সরকার গঠন করতে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতানিয়াহু তাকে সমর্থন দিতে কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা নাফতালি বেনেটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ল্যাপিদের সরকার হবে বামপন্থি যা দেশের জন্য খুবই বিপজ্জনক।
সরকার গঠন করতে ল্যাপিদেরও বাম, ডান ও মধ্যপন্থিদের সমর্থন লাগবে। এমনকি আরব পার্টিরও সমর্থন দরকার হচ্ছে। কিন্তু ল্যাপিদের ঘনিষ্ঠ বেনেটর পার্টির এক সদস্য বামপন্থিদের সঙ্গে সরকার গঠন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সরকার গঠনে বড় ধরনের জোট গঠন করা হলে তা ভোটারদের মধ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে চিন্তায় আছেন বেনেট। প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক আয়েলেত ফ্রিসক বলেন, পরিবর্তনের বিষয়ে বেনেট কতোটা সিরিয়াস তার ওপরই নির্ভর করে নতুন সরকার গঠিত হবে কিনা। এরই মধ্যে প্রায় সবকিছুই চূড়ান্ত হয়েছে। থিংক ট্যাংক ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইয়োহনান প্লেসনার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য একটা। তা হলো নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে না বসানো। তার মতে, পরিস্থিতি হয়তো সেদিকেই এগুচ্ছে। তবে এক মাসের মধ্যে সরকার গঠন করতে না পারলে পার্লামেন্ট এক জন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে। কেউ যদি এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে দুই বছরে পঞ্চমবারের মতো ইসরাইলে নির্বাচন দিতে হবে। —এনপিআর ও রয়টার্স
