বুলাউয়েও শহরের বৃক্ষ ও জংধরা হেলিকপ্টার

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ২১:৩৩

জিম্বাবুয়েতে ফ্লেমিংরেড ট্রি বলে পরিচিত, দেখতে আমাদের দেশের কৃষ্ণচূড়ার মতো আগুনঝরা ফুলে-পল্লবে পুষ্পিত তরুবরের সুনাম আছে। বুলাউয়েও শহরের এয়ারপোর্ট রোডের দু’পাশে লাগনো আছে শত বছরের পুরনো অনেকগুলো ফ্লেমিংরেড ট্রি। বুলাউয়েও ছেড়ে আমি এ সপ্তাহের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে-তে যাব বলে পরিকল্পনা করছি। হয়তো এ শহরে আর ফিরে আসার সুযোগ হবে না। তাই বিকালবেলা চলে আসি এয়ারপোর্ট রোডে, ফ্লেমিংরেড বৃক্ষরাজিতে ঝেপে লোহিত পুষ্প ফুটেছে কি না—তা সরেজমিনে দেখতে। না, কপাল খারাপ, সঠিক সিজন হলেও গাছগুলোর পত্রালী হলুদ হয়ে আছে, তাতে এখনো ফোটেনি আগুনঝরা কোনো ফুল।

এখনই ঘরে ফিরতে ইচ্ছা হয় না, তাই এয়ারপোর্টের দিকে হেঁটে যাই। পথে সাক্ষাত্ মেলে নগরীর বয়স্ক এক বেওবাব বৃক্ষের সঙ্গে। চতুর্দিকে ছড়ানো বুড়ো গাছটির ডালপালায় কালোয় সাদা মেশানো কিছু দাঁড়কাককে গুলতানি করতে দেখে সড়ক ছেড়ে তার কাণ্ড ঘেঁষে দাঁড়াই। বৃক্ষটি এতই বয়স্ক যে—তার ক্ষয়িষ্ণু কাণ্ডে যেন ঘাপটি মেরে আছে কম-সে-কম আড়াই শত বছরের স্থানীয় ইতিহাস। আমি কাছাকাছি এসে দাঁড়াই। দাঁড়কাকগুলো বিরক্ত হয়ে উড়ে যায় বিমানবন্দরের দিকে। রোদে পোড়া এ প্রবীণ মহিরুহকে কেন জানি ভারি ক্লান্ত দেখায়, তার অবসন্নতা এতই প্রবল যে, বেওবাবটি বোধ করি নিজেকে পত্র-পল্লবে সবুজাভ করার আগ্রহ হারিয়েছে। এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটু দূরে এয়ারপোর্টের নির্জন রানওয়েতে উইন্ডসক্সের ওড়াউড়ি দেখি।

তারপর হাঁটতে হাঁটতে আরো খানিকটা সামনে বাড়ি। পাশে—ঘাসের সবুজাভ জমিনে পড়ে আছে সাদা রঙের অকেজো এক জংধরা হেলিকপ্টার। মাস কয়েক আগে একদিন আমি এ এয়ারপোর্টের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছিলাম। তখন এ হেলিকপ্টারটি ঘিরে নেডেবেলে সম্প্রদায়ের কিছু কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে ভরদুপুরে স্রেফ আধ-ন্যাংটা হয়ে ড্যান্স করতে দেখেছিলাম। বুলাউয়েওতে নানা কারণে মানুষজন হামেশা হাটবাজার, রাজপথ, সরোবরের পাড় বা বনানীতে—আপাতদৃষ্টিতে খামোকা নৃত্যগীতে মাতোয়ারা হয়। তাই জংধরা হেলিকপ্টারের খোল ঘিরে নৃত্যের তুমুল তাণ্ডবে তেমন একটা তাজ্জব হইনি, তবে যা আমাকে অবাক করেছিল, তা হলো নাচের পর দাঁদের চুলকানি হলে গরু বা মহিষ যে রকম গাছের কাণ্ডে কাঁধ ঘষে, সে কায়দায় নৃত্যশিল্পীদের হেলিকপ্টারের চেসিসে সমবেতভাবে শরীর ঘষামাজা করা। আজ অবশ্য অকেজো আকাশযানটির পাশে উল্লেখযোগ্য কিছুই ঘটে না। এতে একটু খাজুল হয়ে আমি এয়ারপোর্টের পার্কিংলটের দিকে আগাই।

বুলাউয়েওর বিমানবন্দরটির পোশাকি নাম ‘জাশুয়া নকোমো এয়ারপোর্ট’। এর পার্কিংলটে গাড়িঘোড়া একটিও নেই দেখে চমকে ওঠার মতো হালত হয়! আধুনিক এ বিমানবন্দরের বয়স বছর তিরিশেকের বেশি হবে না। একসময় বয়স্ক বেওবাব বৃক্ষটির ওপর দিয়ে নিচু হয়ে উড়ে এ রানওয়েতে নামত হররোজ অনেকগুলো হাওয়াই জাহাজ। হালফিল অর্থনৈতিক দুর্বিপাকে বুলাউয়েওর অবস্থা বেহদভাবে কাহিল হয়েছে। ইদানীং আর এ বিমানবন্দরে বোধ করি হাওয়াই জাহাজ অবতরণ করে না তেমন। রানডাউন এয়ারপোর্টটির ভেতর 

কতটা সক্রিয়—তা সরেজমিনে দেখার জন্য অতঃপর আলগোছে ঢুকে পড়ি ডিপারচার লাউঞ্জে।

না, এয়ারপোর্টটি রানডাউন হলেও একেবারে অচল নয়। একটু আগে পাশের দেশ জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকা থেকে উড়ে এসে একটি প্লেন ল্যান্ড করেছে। ঘণ্টাদেড়েক পর সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহর থেকে আসবে আরেকটি ফ্লাইট। এয়ারপোর্টে অপেক্ষমাণ বিস্তর যাত্রী, এদের কেউ কেউ লাউঞ্জে বসে অলস চোখে তাকিয়ে আছে চলমান টিভি স্ক্রিনের দিকে। আবার কেউ কেউ চাকাওয়ালা স্যুটকেস সাপটে ধরে টানা-হ্যাঁছড়া করছে।

আমি এয়ারপোর্টের ক্যাফেতে ঢুঁ মারি। ক্যাফের প্রায় সবগুলো টেবিল-চেয়ার জুড়ে বসেছে কাচ্চাবাচ্চা নিয়ে বেশ কয়েকটি ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত পরিবার। জিম্বাবুয়েতে ভারতীয়রা অনেক বছর হলো অভিবাসী হয়ে আছেন। এদের অনেকের তিন-চার প্রজন্মের কেটেছে এদেশে। ভারতবর্ষের সাথে কারো আর তেমন কোনো যোগসূত্রও নেই। ভারতীয় অভিবাসীদের বাতাবরণে খানিক বেমানান হয়ে তাদের পাশের টেবিলে বসে আছে এক শ্বেতাঙ্গ তরুণী, তার হাঁটু ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছয়-সাত বছরের উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ ছেলে। তারা চোখ তুলে আমাকে অবলোকন করে। ছেলেটির চোখে কৌতূহল, কিন্তু তরুণী নতমুখি হতেই তার দৃষ্টির আর্দ্রতা আমি অনুভব করি। ক্যাফেতে খালি টেবিল নেই, তাই লবির দিকে যাওয়ার পথে এ দৃষ্টিপাত দরিয়ার নীলাভ জলধি থেকে ছিটকে ওঠা নোনাজলের মতো আমার সংবেদনে ছড়ায় আর্দ্রতা।

দৃশ্যটি আমাকে বিপন্ন করে, কিন্তু এনগেজ হওয়ার উপায় নেই, তাই, অ্যারাইভ্যাল লাউঞ্জের দিকে রওয়ানা হই। চলে আসি ব্যাগেজ এরিয়ার কাছাকাছি। সিঁড়ির ওপাশ থেকে ভেসে আসে হাসি-ঠাট্টার শোরগোলে জমজমাট আওয়াজ। আমি কাঁধ বাঁকিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি, একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ যেন উষ্টা খেয়ে পড়েছেন ফ্লোরে। সাথে সাথে সমবেত অট্টহাসিতে বিস্ফোরিত হয় বেসামাল উল্লাস। বিষয়টি কী—তা জানতে সিঁড়ির আবডাল অতিক্রম করে চলে আসি ওপাশে। না, কোনো দুর্ঘটনায় জখম হয়নি কেউ, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ড্যান্সার ডিগবাজির কায়দায় পরিবেশন করছেন হিপ হপ ড্যান্সের দৈহিক কলাকৌশল। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে জনা কয়েক চৌকশ চেহারার শ্বেতাঙ্গ পর্যটক। তাদের সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আমোদে মেতেছেন বুলাউয়েওর কৃষ্ণাঙ্গ ট্যুরগাউড ও হোটেল কিংবা ট্যাক্সি কোম্পানির এজেন্টরা। এ কিসিমের প্রমোদে শরিক হতে হলে নৃত্যের তামাদিতে ছুড়তে হয় টাকাপয়সা। আমার বাজেটে তঙ্গি পড়েছে, তাই এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে ফিরে আসি ক্যাফেতে।

শ্বেতাঙ্গ তরুণী-মা ও ছেলে একসাথে চোখ তুলে আমার দিকে তাকায়। তাদের ঠিক পাশেই একটি টেবিল খালি হয়েছে। ওখানে বসে পড়ে ইশারায় কফির অর্ডার করি। এক পেয়ালা কফি পাওয়া যায় বটে কিন্তু ক্রিম নেই। তিতকুটে কালো কফি খেতে খেতে আমি আফ্রিকায় আভিবাসী হওয়া ভারতীয়দের জীবনের চালচিত্র দেখি। এদের লেবাসে মুসলিম সংস্কৃতির সুস্পষ্ট ছাপ। পুরুষদের প্রায় সকলেই পরে আছেন ঢোলা কামিজের সাথে গোড়ালির বেশ উপরে ওঠানো শিলওয়ার। স্যুট-টাই পরা এক ব্যক্তির দীর্ঘ দাঁড়ি মেহদি পাতায় রঞ্জিত। তার পাশে বসে—গলায় চেককাটা গিলাফ জড়ানো এক মাঝবয়সী দাঁত খিলাল করে ছোট্ট অজিফা থেকে মৃদুস্বরে তিলাওয়াত করছেন। মহিলাদের সকলেই বোরকাবৃতা। এক তরুণী বোরকার ভেতর থেকে হেনার নকশা আঁকা ফরসা হাতে বাচ্চা দুটি ছেলেমেয়েকে বুন্দিয়া দিয়ে পরোটা খাওয়াচ্ছেন।

পাশের টেবিলে শ্বেতাঙ্গ তরুণীটি খুব তাড়াহুড়া করে গরম কফিতে চুমুক দিয়ে সিগ্রেট বের করে ম্যাচ ঠুকে তা জ্বালাতে যায়। ছোট্ট ছেলেটি তার হাঁটু জড়িয়ে ধরে আছে। সে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের শ্বেতাঙ্গ বুয়ার সম্প্রদায়ের ভাষা আফ্রিকানসে কিছু নালিশ জানায়। অল্প-বয়সী মা-র ভুরু কুঁচকে ওঠে, সে স্পষ্টত বিরক্ত হচ্ছে। ছেলেটির হাঁটু ধরে ঝাঁকুনিতে তার ম্যাচ-কাঠি নিভে যায়। তরুণী তাকে মৃদু ধাক্কায় খানিক দূরে ঠেলে দিয়ে আবার সিগ্রেট ধরাতে গেলে, বাচ্চাটি ফিরে এসে মায়ের থুতনি ছুঁয়ে তার নীল চোখে সরাসরি দৃষ্টি রেখে কিছু বলে। ফস করে জ্বলে ওঠা ম্যাচ-কাঠিটি ফের নিভে যায়। মা সিগ্রেট অ্যাশট্রেতে রেখে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। সাউথ আফ্রিকায় বসবাসের সুবাদে বুয়ারদের ভাষা আফ্রিকানস্-এর কিছু শব্দ ও বাক্যের সাথে আমার পরিচিতি আছে। তা থেকে আন্দাজ করি, ছেলেটি তার বাবা সম্পর্কে মাকে প্রশ্ন করে জ্বালাতন করছে। তরুণী স্পষ্টত বিব্রত, তার চোখেমুখে সিদ্ধান্তহীনতার এক্সপ্রেশন ফুটে ওঠে। একটু অবাক হই, মেয়েটির করুণ চোখের পাপড়িতে সুরমার দাগ দেখে। স্কার্টপরা এ নারীর সোনালি চুলে আলগা হয়ে জড়িয়ে আছে নীলাভ ওড়না।

ছেলেটি বারবার তাকে বিরক্ত করছে। তার চোখেমুখে মায়ের চেহারার স্পষ্ট ছাপ। তবে বাচ্চাটির গায়ের রং সম্পূর্ণ শ্বেতকায় নয়, বরং উজ্জ্বল শ্যাম, আঁচড়ানো চুলেও লেগে আছে লালচে মরচে রংয়ের প্রলেপ। মা অস্থির হাতে আবার ম্যাচ ঠুকে সিগ্রেট ধরাতে যায়। মনে হয়, তার ম্যাচের কাঠি ফুরিয়ে এসেছে। আমি উঠে ‘মে আই হেল্প ইউ’ বলে তার সিগ্রেট ধরিয়ে দিই। ছেলেটি আমাকে গাঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বুঝতে পেরে আমি জানতে চাই, ‘লিটল পারসন, হোয়াট ইজ ইয়োর প্রবলেম?’ ছেলের হয়ে মা জবাব দেয়, বাচ্চাটি অবজারভেশন ডেকে গিয়ে রানওয়েতে প্লেনের ল্যান্ড করা দেখতে চাচ্ছে। জোহানেসবার্গের ফ্লাইট এখনই ল্যান্ড করবে। সে একজনের প্রতীক্ষায় আছে, যার জোহানেসবার্গের ফ্লাইটে বুলাউয়েওতে আসার কথা। অবজারভেশন ডেকে ছেলেকে নিয়ে গেলে আগন্তুক যদি তাকে মিস করে বেরিয়ে যায়। তাই তরুণী বাচ্চাটিকে নিয়ে ডেকে যেতে চাচ্ছে না। খানিক ইতস্তত করে আমি অতঃপর ছেলেটিকে অবজারভেশন ডেকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বলি, ‘ইফ ইউ ট্রাস্ট মি, আই ক্যান টেক হিম আপ দেয়ার।’  তরুণী সম্মত হয়ে বলে, ‘কাইন্ডলি আমার ছেলেকে প্লেন ল্যান্ড করার দশ-পনেরো মিনিট পর ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন কিন্তু।’

ছেলেটিকে নিয়ে আমি সিঁড়ি বেয়ে জনহীন অবজারভেশন ডেকে উঠে আসি। রানওয়েতে জোহানেসবার্গের প্লেন মাত্র ল্যান্ড করেছে। ছেলেটি সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা প্যাসেনজাদের খুঁটিয়ে দেখে বিড়বিড়িয়ে ইংরেজিতে বলে,‘ নো, আই ডোন্ট সি হিম। মাই ড্যাড হ্যাজ নট অ্যারাইভড। সে এবারও আসেনি। মাই মাম্মি ইজ গোয়িং টু বি ভেরি অ্যাংরি, আই অ্যাম টেলিং ইউ... আমার মা কিন্তু খুব রেগে যাবে।’ আমি এ পর্যায়ে কৌতূহলী হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করি, ‘ইজ ইয়োর ড্যাড অ্যা জেন্টেলম্যান ফ্রম ইন্ডিয়া?’ বাচ্চাটি ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে জবাব দেয়, ‘ইয়েস, দ্যাটস রাইট, হি ইজ অ্যান ইন্ডিয়ান মুসলিম। হি ডোন্ট লাইক আস অ্যানি মোর। হি জাস্ট হেইটস্...।’ জিজ্ঞেস না করে পারি না, ‘হোয়াই ইজ দ্যাট লিটিল পারসন?’ ছেলেটি সিঁড়ি ধরে নামতে নামতে জবাব দেয়, ‘মাম্মি আমাকে একটি পুডুল-ডগ কিনে দিয়েছে। মাই ড্যাড ডাজন্ট লাইক দিস ডগ। আমি যে মায়ের সাথে রোববারে চার্চে যাই, এটাও তার পছন্দ না।’

ছেলেটিকে আমি তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনি। তরুণী ক্যাফেতে খুব মনক্ষুণ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে অ্যারাইভ্যাল এরিয়া থেকে বেরিয়ে আসা প্যাসেনজারদের খুঁটিয়ে দেখছে। আমার সাথে তার চোখাচোখি হয়, কিন্তু কিছু না বলে সে ঝট করে মুখটি ফিরিয়ে নেয়।

এয়ারপোর্টের গিফ্ট শপগুলোতে আমি কিছুক্ষণ কাটিয়ে হেঁটে হেঁটে বুলাউয়েও শহরে ফেরার উদ্যোগ নিই। বয়স্ক বেওবাব গাছের কাছে এসে দেখি, বাচ্চা ছেলেটি তার হাতকে বন্দুকের মতো তাক করে তাকিয়ে আছে—ডালে বসা বিরাট হাড়গিলা জাতীয় পাখির দিকে। পাশে দাঁড়িয়ে তার মা, হাতে তার সিগ্রেট এবং চোখেমুখে বোলতার পাখনার মতো অস্থিরতা। তো আমি এগিয়ে গিয়ে কিছু না বলে তার সিগ্রেটটি ধরিয়ে দেই। তরুণী তাতে দম দেয়, তখনই তার নীল চোখ থেকে দু-ফোটা অশ্রু এসে ছাই রঙের সুরমায় রঞ্জিত পাপড়িতে আটকে যায়। সে রুমালে চোখ মুছে খুব ম্রিয়মাণ স্বরে বলে, ‘ইউ সিমস্ অ্যা ভেরি কাইন্ড পারসন, বাট দ্যা ওয়ান আই ওয়াজ ওয়েটিং ফর টুডে ইজ নট।’ আমি তাদের সান্নিধ্যে দাঁড়িয়ে নীরবে ভাবি, কে সে ব্যক্তি? কেন সে আজ হূদয়হীন হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে?

এবার বিদায় নিতে হয়, কীভাবে গুডবাই বলা যায় ভাবছি, তখনই মুখ ফসকে বেরিয়ে আসে, ‘পারহেপ্স উই উইল নেভার মিট এগেইন...।’ ম্লান হেসে তরুণী জবাব দেয়, ‘দ্যাটস প্রবেবলি ট্রু, বাট ইট ওয়াজ ইনডিড নাইস টু মিট ইউ।’ আমি গুডবাই বলে ছেলেটির সঙ্গে হাত মেলাই। তখনই তরুণীর উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টির সাথে ফের লক হয়ে যায় আমার দু’ চোখ।