চৌধুরী ফেরদৌস
মেয়েটা উঠল বাসে পঙ্গু থেকে, হন্তদন্ত বসে পড়ল পাশে।
আমি ঝিমুচ্ছিলাম, বকবকানিতে তন্দ্রা গেল কেটে,
চোখ তুলে তাকালাম...
মেয়েটা বলল, ‘দ্যাখেন, দ্যাখেন:
কী সুন্দর গোলাপ ফুটেছে লাল, সাদা, হলুদ...
সরোয়ার্দীর মাঠে!’
একটা মিষ্টি গন্ধ ভেসে এল নাকে...
বাস ফার্মগেট দিয়ে যাবে না, মেট্রো রেলের কাজ চলছে:
আমাকে নামতে হবে আড়ংয়ের উলটো দিকে।
উঠে দাঁড়াতেই মেয়েটা বলল, ‘আপনি নামবেন!’
আমি নামলাম, বাস ছেড়ে দিল...
রিকশা খুঁজছি, আবার মিষ্টি গন্ধ!
একটা মিষ্টি গন্ধ, একটা মিষ্টি গন্ধ, একটা মিষ্টি গন্ধ...
ভাবলাম একটা সিগ্রেট ধরাই:
পকেট হাতড়াই, সিগ্রেট নাই...
পকেট চাপড়াই, মানিব্যাগটাও নাই!
অগত্যা হেঁটে হেঁটে, টলতে টলতে
মানিক মিয়া হয়ে খামারবাড়ি,
খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট,
ফার্মগেট হয়ে কাওরান বাজার...
কড়া-রোদে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ইত্তেফাক।
অফিসে এসে চেয়ারে বসি, এক বোতল পানি খাই,
মনে মনে ভাবি কী হলো!
ফের পকেট চেক:
মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, সিগ্রেট প্যাক সবই আছে!
একটা মিষ্টি মিহি গন্ধ তখনো নাকে লেগে আছে...
