মেঘনায় ইলিশসংকট বিপাকে জেলেরা

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ২১:৪৭

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

আশা ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ ধরতে পারবেন। আর সেই ইলিশ বেচে ঋণ পরিশোধ করে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু নদীতে গিয়ে ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হলো জেলেদের। দীর্ঘ দুই মাস পর লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে গিয়ে জেলেদের জালে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এদিকে ইলিশ না পাওয়ায় ক্রেতার সমাগম নেই লক্ষ্মীপুরের মত্স্য ঘাটগুলোতে। এতে হতাশা বিরাজ করছে জেলা সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মত্স্য ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের মধ্যে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, ইলিশের অভয়াশ্রম হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মে মধ্যরাতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে নেমে পড়েন জেলেরা। কিন্তু ১ মে মধ্যরাত থেকে গত এক সপ্তাহ পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি। এতে গত দুই মাসের ধার-দেনা, মহাজনের দাদন ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা, ট্রলারের তেলের খরচও উঠছে না জেলেদের।

মজু চৌধুরীর হাট এলাকার জেলে আয়ুব আলী, সেকান্তর মাঝি, মো. খোরশেদ বলেন, দুই মাস পর অনেক স্বপ্ন নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হতাশ হয়ে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি। ১ মে মধ্যরাত থেকে গত এক সপ্তাহ পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলে যাচ্ছি। প্রতিদিন আশায় থাকি জালে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাব। কিন্তু প্রতিদিনই জাল ফেলে তিন-চারটির বেশি ইলিশ পাই না। 

কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকার জেলে ফোরকান মাঝি, রুবেল মিয়া, আমির হোসেন ও সুফিয়ান জানান, তারা ১৫ জন জেলে একটি ট্রলার নিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে নদীতে গিয়েছিলেন। মাত্র ৩ হাজার টাকার ইলিশ পেয়েছেন। এতে তেলের খরচও উঠেনি তাদের। আশা ছিল নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে গিয়ে অনেক মাছ ধরে ধার-দেনা পরিশোধ করতে শুরু করমু। এতে আমাদের দুঃখ দূর হবে। কিন্তু তা আর হলো না। অভিযানের দুই মাস যে ধার-দেনা ও এনজিওর কিস্তির টাকা বাকি ছিল তা এখন পরিশোধ করব কেমনে। ছেলে, মেয়ে, পরিবার-পরিজন নিয়ে কী করে আমাদের দিন কাটবে সেই চিন্তায় আছি আমরা।

আলেকজান্ডার সেন্টাল মাছঘাট এলাকার মত্স্য ব্যবসায়ী হারুন মিয়া ও আবদুল আজিজ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা মত্স্য ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে জেলেদের দাদন দিয়েছি। কিন্তু এখন জেলেরা নদীতে গিয়ে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। এখন আমার কী করব তা নিয়ে চিন্তিত আছি।

লক্ষ্মীপুর জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে পানি কমে গেছে, এতে অভয়াশ্রম শেষে বড় ইলিশ সাগরে চলে গেছে, তাই এখন লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশ সংকট দেখ দিয়েছে। বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ নদীতে উঠে আসবে। তখন নদীতে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করতে পারবেন।