এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্মের প্রস্তাব

বাজেটের সঙ্গে একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধার কৌশল থাকতে হবে

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ২১:৫০

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আসছে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতি পুনরূদ্ধারে একটি শক্তিশালী কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে প্রণোদনার অর্থ বিতরণে তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২: পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কী থাকছে’ শিরোনামের ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম।

নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এতে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরো বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারম্যান মুশতাক রাজা চৌধুরী, বিল্ড-এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম প্রমুখ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মূল বাজেটের সঙ্গে একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের কৌশল থাকতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে কমপক্ষে দু-তিন বছরের সময়সীমার একটি কাঠামো প্রয়োজন। মার্চ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র অর্ধেক রাজস্ব আদায় হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেগেছে। সেই সঙ্গে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ অনেক বেড়ে গেছে।

করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। তবে অনেক উদ্যোগ যেগুলো সাধারণ মানুষের জন্য নেওয়া হয়েছে সেগুলোকেও করোনার সহায়তার মধ্যে বলা হচ্ছে। যেমন, সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ, গৃহহীনদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার এসব উদ্যোগকেও করোনার সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রণোদনা ঘোষণা করা হলেও এটির সঠিক বিতরণ হচ্ছে না। বিতরণ কাঠামোতে দুর্বলতা এর বড় কারণ। সাধারণ মানুষের জন্য যে প্রণোদনার আকার ঘোষণা করা হয়েছে সেটি জিডিপির তুলনায় খুবই নগন্য। প্রণোদনার অর্থ সঠিকভাবে বিতরণে কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়।

ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সত্ করদাতার সঙ্গে এটি অন্যায় আচরণ। সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা থাকলেও সেটিও ভঙ্গ হচ্ছে। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ অর্থনীতির নীতির পরিপন্থি, সাম্যের পরিপন্থি। তিনি বলেন, যে তিনটি খাতে কালোটাকা সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে নতুন কিছু উত্পাদন হয় না। অনুত্পাদনশীল খাতেই এটি বিনিয়োগ হচ্ছে। ৫০ বছরের বাংলাদেশে একটি শ্রেণির জন্য এই সুযোগ কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি, আমরা ৩০ শতাংশ হারে কর দিচ্ছি। আর যারা কালোটাকা সাদা করছেন, তারা ১০ শতাংশ কর দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। সত্ করদাতাদের কাছে এটি একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আমাদের কর দিতে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ যদি দিতেই হয় সেটি হতে পারে শিল্প খাতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। শিশুদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আসছে বাজেটে শিশু বাজেট করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।