স্পোর্টস রিপোর্টার
গুঞ্জন ছিল মালদ্বীপে এএফসি কাপ গ্রুপ পর্বের খেলা হবে কি হবে না, শেষ পর্যন্ত আচমকাই খবর এসছে—এএফসি কাপ স্থগিত করা হয়েছে। ডি গ্রুপের খেলা খেলতে গতকালই মালদ্বীপে রওনা দেওয়ার কথা ছিল বসুন্ধরা কিংসের। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তারা টিম বাসেও উঠেছিলেন। কিন্তু সব প্রস্তুতির পর রনে ভঙ্গ দিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। কবে খেলা হবে তা নিশ্চিত না। শুধুমাত্র ডি গ্রুপের খেলাই স্থগিত করা হয়েছে।
মালদ্বীপের মালেতে ১৪-২০ মে গ্রুপ পর্বের খেলা ছিল। বসুন্ধরা ছাড়াও মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস, ভারতের এটিকে মোহনবাগান এবং চতুর্থ দল ছিল অনির্ধারিত। ১১ জুন ভারতের ব্যাঙ্গালুরু এফসি এবং মালদ্বীপের ঈগলসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। এখানে থেকে বিজয়ী দল বসুন্ধরার গ্রুপে খেলার কথা ছিল। ব্যাঙ্গালুরু এফসি মালদ্বীপে আগেই চলে গিয়েছিল। এটিকে মোহনবাগান গতকাল রওনা দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে মালেতে পৌঁছানোর কথা ছিল বসুন্ধরা কিংসেরও।
বাফুফে জানিয়েছে মালদ্বীপ খেলা স্থগিত করতে এএফসিকে জানিয়েছে। এএফসিও বাফুফেকে জানিয়ে দিয়েছে খেলা স্থগিত। এই খবর পেয়ে বসুন্ধরার খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পে ফিরে যান। দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন তার ফেসবুকে বলেছেন খুবই দুঃখজনক। আমরা আমাদের খেলার জন্য উদগ্রীব ছিলাম।
গতকাল কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন জানায় মালদ্বীপে এএফসি কাপ খেলতে গিয়ে ভারতের মুখ পোড়াল সুনীল ছেত্রীর ব্যাঙ্গালুরু এফসি। সে দেশের করোনা বিধি ভাঙার অভিযোগ উঠল সুনীলদের বিরুদ্ধে। তাদের ওপর বেজায় চটেছে মালদ্বীপ সরকার। আর এক মুহূর্তও সুনীলদের সে দেশে রাখতে চাইছে না তারা।
মালদ্বীপের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ মাহলুফ টুইটারে লেখেন, ‘এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না মেনে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে ব্যাঙ্গালুরু এফসি। অবিলম্বে মালদ্বীপ ছাড়তে হবে এই ক্লাবকে। কারণ আমরা এই আচরণ মানতে পারছি না। কয়েক মাস আগে জনগণের চাপ ও মামলার পরেও আমরা এই প্রতিযোগিতা করতে রাজি হয়েছিলাম’।
মালদ্বীপ সরকার ভারত থেকে আগত দুটি ক্লাব ব্যাঙ্গালুরু এফসি ও এটিকে মোহনবাগান-এর জন্য কড়া সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছিল। কিন্তু খেলোয়াড়রা তা না মেনেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। এতেই গোটা দলের ওপর ব্যাপক চটেছে মালদ্বীপের প্রশাসন।
