ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়ল চীনা রকেট

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ২২:৪৫

চীন বলছে, তাদের যে মহাকাশ রকেটটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর দিকে আসছিল, তা খণ্ডবিখণ্ড হয়ে ভারত মহাসাগরে পড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, রকেটটির বেশির ভাগ অংশই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় ধ্বংস হয়, কিন্তু এর কিছু অংশ ৭২.৪৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২.৬৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ বরাবর পড়ে। জায়গাটি ভারত মহাসাগরে মালদ্বীপের পশ্চিম দিকে।

চীনা গণমাধ্যম জানায়, লং মার্চ ফাইভবি ইয়ো-২ নামের এই রকেটটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে গ্রিনিচ মান সময় ভোর ২টা ২৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২৪ মিনিট)। এর আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল রকেটটির ধ্বংসাবশেষ জনবহুল এলাকায় গিয়ে পড়তে পারে। ফলে ব্যাপক প্রাণহানিরও সম্ভাবনার কথা ভাবা হচ্ছিল। মার্কিন স্পেস কমান্ড এক বিবৃতিতে এই রকেট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে এটি কোথায় আঘাত হেনেছে তা ‘অজানা’ বলে উল্লেখ করছে।

রকেটের অবশিষ্টাংশ ভারত মহাসাগরে পড়েছে, যদিও বড় একটি অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ধ্বংস হয়ে গেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সমুদ্রে অবশিষ্ট অংশগুলো পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তথ্য গ্রহণ করে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা স্পেস-ট্রাক রকেটের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের তথ্য নিশ্চিত করেছে।বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছিলেন যে, রকেটের টুকরোগুলো সমুদ্রেই পড়তে যাচ্ছে, যেহেতু পৃথিবীর ৭০ শতাংশই পানি। তবে অনিয়ন্ত্রিত এই রকেটের পৃথিবীর দিকে আসার ঘটনায় অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, কারণ সেটি ক্ষয়ক্ষতি বা কাউকে হতাহত করতে পারে। যদিও সেই সম্ভাবনা খুব কমই ছিল। কক্ষপথ থেকে রকেট পড়ে যাওয়ার জন্য চীনের  অবহেলাকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। দেশটির উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৯ এপ্রিল ওয়েনচ্যাং স্পেস সেন্টার থেকে রকেটটি উেক্ষপণ করা হয়েছিল। এটি নতুন ও স্থায়ী স্পেস স্টেশনটির একটি মডিউল কক্ষপথে বহন করতে ব্যবহার করা হয়। —বিবিসি