পুলিশ-বিজিবির ওপর হামলার পরিকল্পনা!

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ০০:১৫

ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সন্দেহভাজন চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা পুলিশ ও বিজিবির ওপর ‘হামলার পরিকল্পনা’ করছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ইনভেস্টিগেশন বিভাগ গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আগের দিন সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের বছিলায় অভিযান চালিয়ে ঐ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলো—রাজধানীর অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র জসিমুল ইসলাম জ্যাক (২৫), হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার মারকাজুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল মুকিত (২৯), সিলেটের আল হিদায়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আমিনুল হক (২০) এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী সজীব ইখতিয়ার (২০)।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আনসার আল ইসলামের সদস্যরা ঢাকা ও সিলেটে পুলিশ ও বিজিবির টহল টিমে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য তারা রেকিও করে। গ্রেপ্তার ঐ চার জন এবং তাদের অন্য সদস্যরা ‘সায়েন্স প্রজেক্ট’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত। ঐ গ্রুপের দুজন ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে চলে গেছে এবং অন্যরাও দেশে কোনো ‘নাশকতা ঘটিয়ে’ আফগানিস্তানে চলে যাওয়ার ‘প্রস্তুতিতে ছিল’ বলে পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিটের ভাষ্য।

জঙ্গিরা হঠাত্ কেন বিজিবিকে নিশানা করল—এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের হামলার লক্ষ্য হিসেবে রেখেছে। এ দলের জঙ্গিদের আফগানিস্তানে ‘হিজরত’ করা নিয়ে এক প্রশ্নে ডিআইজি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমাদের দেশে যে কটি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয়, তাদের অধিকাংশই আলকায়েদার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করে। আনসার আল ইসলাম উপমহাদেশের আলকায়েদার শাখা বলে দাবি করে। সেই সূত্র ধরেই তারা হয়তো আফগানিস্তানে হিজরত করতে গিয়ে থাকতে পারে। তবে এটা তাদের ভাষ্য, এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির প্রধান বলেন, তাদের পরিকল্পনা ছিল অক্সিজেন গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো। বিষয়টি তাদের পরিকল্পনা পর্যায়ে ছিল। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ঐ ‘জঙ্গিরা’ সম্প্রতি সংগঠনের নেতাদের নির্দেশে সিলেটের কোতোয়ালি থানা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে হোটেল ম্যানেজারকে আহত করে পালিয়ে যায়।

ঐ চার জন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে খোঁজ-খবর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গ্রেপ্তার চার জনকে পরে ঢাকার আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের ১০ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক মাসুদ-উর-রহমান তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।