তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা
কর্মক্ষেত্রে মজুরিবৈষম্য মেনে নিয়েই পুরুষের সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে তানোরের নারী শ্রমিকদের। কখনো পুরুষ শ্রমিকের সমান, কখনো বা বেশি কাজ করেও তারা মজুরি পাচ্ছেন কম। ঘরের কাজ সেরে জীবিকার জন্য মাঠে নেমেও সমান মর্যাদা পাচ্ছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রে ঘরে-বাইরে সমান বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। উপজেলার গোল্লাপাড়া, গুবিরপাড়া, সিন্দুকাইসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
তারা জানান, মজুরি কম জেনেও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করলেও কখনো কখনো পুরুষ সহকর্মী, কখনো মালিক পক্ষের হাতে নিগৃহীত হতে হয়। এমনকি অনেক সময় নারী বলে কাজে নিতেও আপত্তি জানান মালিকরা। কাজের ধরন, সময় অনুসারে মজুরি নির্ধারণ করা হলেও নারী শ্রমিকরা প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকের চেয়েও কম মজুরি পান। একজন পুরুষ শ্রমিক ধানের জমিতে সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ধান কাটলে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি পেলেও নারী শ্রমিককে দেওয়া হয় ৩৫০-৪০০ টাকা। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের কৃষক বিজয় কুমার প্রামাণিক, পৌরশহরের গোল্লাপাড়া মহল্লার ধান গবেষক ও কৃষক নূর মোহাম্মদ নারী শ্রমিকদের বৈষম্যের কথা স্বীকার করে বলেন, তানোরে নারী শ্রমিকরা প্রতিনিয়িত মজুরি বৈষম্যেও শিকার হচ্ছেন। যা ঠিক নয়। এ নিয়ে গবেষণা সংস্থা বারবিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা অমৃত কুমার সরকার জানান, অঞ্চলভেদেও নারী শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একই সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করলেও তারা পুরুষ শ্রমিকের সমান মজুরি পান না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের এই বৈষম্যের মানসিকতা পরিবর্তন করে নারীর যথার্থ মর্যাদা দিতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, সরকার নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
