রেজাউল হক কৌশিক
করোনা মহামারিতে দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। আবার লকডাউনে কর্মহীন হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। যারা চাকরি ও ব্যবসা করছেন তাদের অনেকেরই আয় আগের তুলনায় কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তেমনই আভাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, কর্মহীন দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাভোগীর আওতা এবং বরাদ্দ—উভয়ই বাড়ানো হচ্ছে এবারের বাজেটে। তাছাড়া চলতি বাজেটে করোনাকালে যারা সম্মুখযোদ্ধা তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে, নতুন বাজেটেও তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। আগামী বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরের নতুন বাজেটের আকার সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার হচ্ছে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে। এতে বাজেটের ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি।
বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার সার্বিক বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি বছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১১২টি উপজেলার সব বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ভাতার আওতাভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে সারা দেশে ৪৯ লাখ বয়স্ক নাগরিককে মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা দেয় সরকার। নতুন করে ১৫০ উপজেলায় সব বয়স্ককে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সেটা হলে ভাতাভোগীর সংখ্যা আরো ৮ লাখ বাড়তে পারে। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে সোয়া ৫ লাখ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী ভাতার আওতাভুক্ত হবে। বর্তমানে সারা দেশে ২০ লাখ ৫০ হাজার নারীকে ৫০০ টাকা করে ভাতা দেয় সরকার। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তার ১২৩টি কর্মসূচি রয়েছে। ৩০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আগামী বাজেটে এসএমই ফাউন্ডেশনকে ২০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থাকে (বিসিক) ৮০ কোটি টাকা, জয়িতা ফাউন্ডেশনকে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এনজিও ফাউন্ডেশন ৪০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ২০০ কোটি টাকা, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনকে ১৫০ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে ৭০ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।
