ইত্তেফাক রিপোর্ট
গতকাল ২৭ রমজানের মধ্যে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের গত মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়ার নির্দেশনা ছিল শ্রম মন্ত্রণালয়ের। তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি পোশাক কারখানায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কারখানায় গতকাল সরকারনির্ধারিত দিনে বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়নি। অবশ্য আজও পোশাক কারখানায় কাজ করবেন শ্রমিকরা। ফলে শেষ দিনে এসে বাদবাকী কারখানাগুলোর বেশির ভাগই বেতন ও বোনাস দেবে। অবশ্য পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান জানিয়েছেন, গতকাল নাগাদ ৯০ শতাংশ কারখানা মে মাসের বেতন ও ৯২ শতাংশ কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে।
এদিকে কারখানা মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতন-বানাস ইস্যুতে এবার তেমন অসন্তোষ নেই। এবার অসন্তোষ দেখা দিয়েছে শ্রমিকদের ছুটি ইস্যুতে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন দিনের বেশি ছুটি দিতে চাইছে না মালিকপক্ষ। অন্যদিকে শ্রমিকরা চাইছে অতীতে বন্ধের দিনে কাজ করায় ঈদের সময়ে সাত থেকে ১০ দিন ছুটি দিতে। এই ইস্যুতে গতকাল গাজীপুর, আশুলিয়াসহ রাজধানীর কিছু এলাকায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। আশুলিয়ায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়েছে বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছে।
সম্প্রতি কারখানা মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় ১০ মের মধ্যে শ্রমিকের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। গতকাল শেষ দিনে শ্রমিক নেতা ও ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সাবেক মহাসচিব তৌহিদুল রহমান ইত্তেফাককে বলেন, সরকারনির্ধারিত দিনে অন্তত ২০ শতাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেনি। অবশ্য এ কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো শ্রম অসন্তোষ না থাকলেও শ্রমিকের ছুটি ইস্যুতে অসন্তোষের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের প্র্যাকটিস হলো শ্রমিকরা বন্ধের দিনে বাড়তি কাজ করলে ঐ ছুটি ঈদের সময় নেয়। কিন্তু এবার তিন দিনের বেশি ছুটি দিতে চাইছে না মালিকপক্ষ। কেউ কেউ দিলেও মৌখিকভাবে দিচ্ছে। অর্থাত্ এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এ নিয়ে শ্রমিকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। গাজীপুর, আশুলিয়া, রাজধানীর মিরপুর এলাকার বেশকিছু কারখানায় অসন্তোষ হয়েছে। হা-মীম গ্রুপে পুলিশের গুলিতে ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, বড় কারখানাগুলো বেতন-বোনাস দিয়েছে। তবে মাঝারি ও ছোট আকারের কারখানাগুলোর অনেকেই দেয়নি। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) নাগাদ এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। বর্তমানে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত সচল কারখানা প্রায় ২ হাজার ৩০০। এই দুই সংগঠনের বাইরে আরো প্রায় ১ হাজার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো নিয়মিত সচল থাকে, সে তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে নেই।
