শিমের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন চাষে লাগবে না মাচা

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ২২:২৫

মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ নামে শিমের দুটি খাট জাত উদ্ভাবন করেছেন। তার উদ্ভাবিত বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ জাত দুটি কোনো প্রকার সাপোর্ট খুঁটি এবং মাচাবিহীনভাবে মাঠ ফসলের মতো চাষ করা যাবে, যা দেশে শিমচাষে যুগান্তকারী গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জাত দুটি ছাদবাগানে টবে চাষ করার উপযোগী।

প্রফেসর আমিনুল ইসলাম জানান, খাট জাতের শিম সাধারণত জংলি প্রকৃতির হওয়ায় এবং শিমে গন্ধ থাকায় এগুলো খাবার অনুপযোগী হয়। তিনি খাট জাতের মধ্যে দেশীয় শিমের গুণাগুণ আনার জন্য আট বছর ধরে গবেষণা করে সফল হয়েছেন। তিনি একটি খাট জাতের সঙ্গে দেশীয় জাতের শঙ্করায়ণ-পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতগুলো উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, বিইউ খাট শিম ৮ আলোকসংবেদনশীল ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। এই জাতটি সারা দেশে চাষ উপযোগী। এ ছাড়া বিইউ খাট শিম ৯ একটি বিদেশি খাট জাতের সঙ্গে দেশীয় জাতের শঙ্করায়ণ পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল ও আগাম জাত। একই সময়ে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। এর শুটির রং সবুজ, শিরা বেগুনি রঙের, শুটি মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। এই জাতটিও সারা দেশে চাষ উপযোগী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত শিমের এই জাতগুলো খাট হওয়ায় মাচা বা খুঁটি ছাড়াই মাঠ ফসলের মতো চাষ করা যাবে। তাই উত্পাদন খরচও কম হবে। কৃষকরা জাতগুলো চাষ করে অধিক লাভবান হবেন। শিমের জাতগুলো খাট হওয়ায় টবেও চাষ উপযোগী। ফলে নগর বা ছাদ কৃষিতেও অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ ছাড়াও প্রফেসর ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম ইতিপূর্বে দেশি শিমের বিভিন্ন গুণগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ছয়টি জাত উদ্ভাবন করেছেন।