কেরানীগঞ্জে ব্যাপক চাঁদাবাজি

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ২২:২৭

তিন ভুয়া সাংবাদিকসহ পাঁচ জনের

বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

 

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

ঈদকে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে  একদল যুবকের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, অর্ধশতাধিক যুবক নিজেদের বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল, মাসিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেকারি কারখানা, বিপণিবিতান, মিষ্টির দোকান ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা অসাধু পুলিশ সদস্যদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়। এমনকি বেশ কিছু ক্ষেত্রে হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন এলাকার ভুক্তভোগীরা। তারা জানান, প্রতারক এ চক্রের অধিকাংশ সদস্যই জুরাইন ও কেরানীগঞ্জে ভাড়া থেকে মাদক বিক্রি ও পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে থাকে। সে কারণে তাদের চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতে থাকে। কিছুদিন আগে এ চক্র সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে। এ চক্রের উল্লেখযোগ্যরা হলো—পিন্টু, হূদয়, জয়নাল আবেদীন, শেখ ফরিদ, রাসেল, স্বপন, জহির, শাহীন, মজিবর, মনির, রানা, রফিক, সেন্টু ও জাকির। এ ভুয়া সাংবাদিকের গণচাঁদাবাজির কারণে কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও ঢাকা জেলা প্রেসক্লাবের পেশাজীবী সাংবাদিকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

বিলম্বে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, গত শুক্রবার শুভাঢ্যা উত্তরপাড়া এলাকায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তা বেগম নামে এক ভাড়াটিয়ার বাসায় হাজির হয় শেখ ফরিদ, রাসেল ও জয়নাল আবেদীন। এ সময় তারা যথাক্রমে এসএ টিভি, বিটিভি ও সময় ডট কম এর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঐ মহিলার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তারা মুক্তা বেগমের ১১ বছরের স্কুলপড়ুয়া নাতি শাকিবাকে চড়-থাপ্পড় মারলে তাদের চিত্কারে এলাকাবাসী ঐ কথিত তিন সাংবাদিককে আটক করে। পরে তারা গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে ঘটনার দায় স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এমন কাজে লিপ্ত হবে না মর্মে মৌখিক মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগী মুক্তা বেগম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় শেখ ফরিদ, রাসেল ও জয়নাল আবেদীনের নামে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি  কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকার—এমনটি দাবি করে একে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করলেও রবিবার দুপুরে থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগটি তিনি নিজে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। এদিকে ভুক্তভোগী একই প্রতিকারের দাবিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করলে পালটা অজুহাতে মামলা নেয়নি তারা। সে কারণে মুক্তা বেগম রবিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে শেখ ফরিদ, রাসেল ও জয়নাল আবেদীন ছাড়াও অজ্ঞাত পরিচয় আরো দুই জনসহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর মামলা তুলে নিতে বাদী ও তার কলেজপড়ুয়া ছেলে শুভকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।