মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি ও সারিয়াকান্দি উপজেলার দুই শতাধিক অসহায় ভূমি ও গৃহহীন পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বানিয়ে দেওয়া হলেও পানি, বিদ্যুত্-সংযোগ কিছুই নেই সেখানে। সে কারণে উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে বসবাস শুরু করতে পারেননি অনেক সুবিধাভোগী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১০০ পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন। পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে সান্তাহারে বরাদ্দ হয়েছে ১৪টি বাড়ি। পানি, বিদ্যুত্ ও অন্যান্য সুবিধার অভাবে ঘরগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। সান্তাহার ইউনিয়নের ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তারাপুর রেলগেট-সংলগ্ন ছাতনী মাঠের ফসলি জমিতে। জমির সরু আইল (রাস্তা) অতিক্রম করে এসব ঘরে যেতে হয়। চারদিকে ফসলি জমির কারণে ঘরের চারপাশ ও আঙিনা সবসময় স্যাঁতসেঁতে থাকছে। এ কারণে এখন অধিকাংশ ঘরেই ঝুলছে তালা। আর যারা ইতিমধ্যে এসব ঘরে উঠেছেন, তারা অনেকটা নিরূপায় হয়েই থাকছেন।
দমদমা গ্রামের সুবিধাভোগী তারা বানু নতুন ঠিকানা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জমির কাগজপত্র ও ঘরের চাবি পেয়েছি। ঘরেও উঠেছি। কিন্তু খাবার, গোসল ও রান্নার জন্য পানি আনতে হচ্ছে অনেক দূর থেকে। এছাড়া ঘরে এখনো বিদ্যুত্-সংযোগ না দেওয়ায় রাতে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। রাস্তা সরু হওয়ায় যাতায়াতে কষ্ট হয়। এসব সমস্যার কথা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তিনি সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন। একই অভিযোগ জানিয়েছেন অন্য সুবিধাভোগীরা।
এ ব্যাপারে সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু জানান, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত্-সংযোগ দিতে কাজ শুরু হয়েছে। পানির জন্য শিগিগরই সাবমারসিবল পাম্প বসানো হবে। এছাড়া ঘরে যেতে সরু রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীর মধ্যে ঘরের চাবি বুঝে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ এসব ঘরে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেননি। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন জানান, ইতিমধ্যে সনদসহ সব কাজ সম্পন্ন ও ঘরের চাবি হন্তান্তর করা হয়েছে। তার পরও যদি ছোটখাট কোনো সমস্যা থাকে সেগুলো শিগিগরই সমাধান করা হবে।
