বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিত্সার জন্য সরকার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপির জোটসঙ্গীরা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে আইনি বাধার কথা আইন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে সেটির ব্যত্যয় ঘটিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশে চিকিত্সার নজির রয়েছে।
মান্না বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ার পরও বর্তমান জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবকে ১৯৭৯ সালে উন্নত চিকিত্সার জন্য জার্মানিতে পাঠানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে মানবিক বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল সবার আগে। বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও তেমনটি আমি আশা করেছিলাম। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যা করা হয়েছে তাতে আমি বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন।
বিবৃতিতে মান্না বলেন, সরকার তাদের প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হতে পারল না। সরকার মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিত্সা নিশ্চিত করার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অন্যথায় সঠিক চিকিত্সার অভাবে খালেদা জিয়ার কিছু হলে সেটির দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
সরকার অনুমতি দিতে পারতো: ইবরাহিম
পৃথক বিবৃতিতে ২০ দল শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, আদালতের মাধ্যমে জামিনবঞ্চিত বেগম জিয়াকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে জেলের বাইরে, নিজ বাড়িতে সুযোগ দিয়েছে সরকার। এজন্য সরকার অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য। একই পদ্ধতিতে সরকার, আইনি জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে বেগম জিয়াকে চিকিত্সার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারতো বা এখনো পারবে। আমরা সেই আবেদনই করছি।
প্রমাণ হলো সরকার কতটা অমানবিক: এলডিপি
২০ দলের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একাংশের সভাপতি আবদুল করিম আব্বাসী ও মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এক যুক্ত বিবৃতিতে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বিবৃতিতে বলেন, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো এই সরকার কতটা অমানবিক।
